শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

বিতর্কিত প্রচারণার জবাবে যা বললেন জামায়াতের মেয়র প্রার্থী জাকির মজুমদার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম
বিতর্কিত প্রচারণার জবাবে যা বললেন জামায়াতের মেয়র প্রার্থী জাকির মজুমদার

মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের জবাব

সম্মানিত হাজীগঞ্জ পৌরবাসী, আসসালামু আলাইকুম।

আমি মোহাম্মদ জাকির হোসেন (জাকির মজুমদার), আসন্ন হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী।

সম্প্রতি আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে আপনাদের কাছে সত্য তুলে ধরা আমার দায়িত্ব বলে মনে করছি।

Model Hospital

গত শুক্রবার বিকেলে আমি মকিমাবাদ ৪ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করি। বাস টার্মিনাল এলাকায় উপস্থিত অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়, সালাম ও করমর্দন করি। নির্বাচনী গণসংযোগে একজন প্রার্থীর জন্য উপস্থিত মানুষের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করাই স্বাভাবিক, আর আমার ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে।

আমার ওই গণসংযোগের একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেই সংবাদ থেকে একটি খণ্ডিত ভিডিও ও স্থিরচিত্র কেটে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও ভুয়া নিউজ লোগো ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

ওই প্রচারণায় দাবি করা হচ্ছে যে, চব্বিশের আন্দোলনে টোরাগড় গ্রামের শহীদ আজাদ সরকার হত্যা মামলার এক আসামির সঙ্গে আমি গোপনে সাক্ষাৎ করেছি, আঁতাত করেছি এবং তাকে নিয়ে গণসংযোগ করেছি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।

বাস টার্মিনালে গণসংযোগের সময় সেখানে উপস্থিত বহু মানুষের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিও ছিলেন। একজন প্রার্থী হিসেবে অন্য সবার মতো তাঁর সঙ্গেও আমি সৌজন্যবশত করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেছি। এই স্বাভাবিক ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে গোপন বৈঠক বা আঁতাত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।

আমি হাজীগঞ্জ পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—যে কোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে অনুগ্রহ করে তার সত্যতা যাচাই করুন। গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য ও বাস্তবতার পাশে থাকুন।

যারা জেনে-শুনে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন, তাদের জন্য আমি আল্লাহর কাছে হেদায়েত কামনা করছি। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সত্য কথা বলার এবং সত্যের পথে থাকার তাওফিক দান করেন।

আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

ধন্যবাদ।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।