শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে জমি বিক্রি করে টাকা হজম, এখন দখলেও বাধা; বিক্রেতার দাপটে দিশেহারা প্রবাসী জমির ক্রেতা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে জমি বিক্রি করে টাকা হজম, এখন দখলেও বাধা; বিক্রেতার দাপটে দিশেহারা প্রবাসী জমির ক্রেতা
টাকা দিয়ে জমি কিনে দলিল সম্পাদন এবং মেপে দখল নেওয়ার পরও চরম বিপাকে পড়েছেন এক প্রবাসী। জমি ফিরিয়ে নিতে বিক্রয়কারী ও তাঁর স্বজনেরা এখন পেশীশক্তি প্রদর্শন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত থেকে শুরু করে জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আইনি লড়াইয়ে আদালতের রায় প্রবাসীর অনুকূলে এলেও প্রতিপক্ষের হুমকি ও দাপটে কেনা সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না তিনি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দেরগাঁও গ্রামে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গাব্দেরগাঁও গ্রামের ক প্রবাসী সবুজ হোসেন ২০২৩ সালের ১৯ জুন প্রতিবেশী আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে গাব্দেরগাঁও মৌজার ৪০৮ দাগের ৮ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর তিনি তা শান্তিপূর্ণভাবেই ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে জমিটি সরকারি রাস্তার পাশে হওয়ায় এবং সময়ের সাথে সাথে এর বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা পুনরায় হস্তগত করার চক্রান্ত শুরু করেন বিক্রেতা আব্দুল মান্নান ও তাঁর ওয়ারিশরা। জমি দখলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে সবুজ হোসেন বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে জানান। কিন্তু স্থানীয় শালিসে কোনো সুরাহা না হওয়ায় প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
সবুজ হোসেন ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞা মামলা (নং- ৩৮০/২০২৩) দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রবাসীর পক্ষে আদেশ জারি করেন।
এদিকে জমি ফেরত পেতে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২ মে একই আদালতে একটি অগ্রক্রয়/হকশূফা মামলা (নং- ১৩৫/২০২৪) দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত শুনানি শেষে তাদের মামলাটি খারিজ করে দেন।
আদালতে আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল মান্নান ও তাঁর সহযোগীরা প্রবাসীর পরিবারের ওপর চড়াও হন। হুমকি-ধমকি ও পেশীশক্তি ব্যবহার শুরু করায় কেনা সম্পত্তি রক্ষা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন ওই প্রবাসী ও তাঁর স্বজনেরা।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা খতেজা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলে প্রবাসে রক্ত পানি করা কষ্টের উপার্জনের সবটুকু দিয়ে এই জমিটুকু কিনেছিল। মান্নান নিজেই জমি বিক্রি করে টাকা নিয়েছেন, আবার এখন তাঁর ছেলেদের নিয়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। বাড়িতে এসে হুমকি দেয়, মারধর করতে আসে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতা আব্দুল মান্নান প্রথমে বিক্রয়কৃত সম্পত্তি হিসেবে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুরের একটি অংশ দেখিয়ে নিজের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে দলিলের দাগ-খতিয়ান প্রদর্শন করা হলে তিনি তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি কবির হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, জমি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান একজন প্রতারক। সে বিদ্যালয়ের সম্প্রতি ঐ ছেলেকে বুঝিয়ে দিতে চায়। অথচ তার দেওয়া দলিলের দাগের সাথে বিদ্যালয়ের সম্পত্তির কোন মিল নেই। সে জমি ক্রেতা প্রবাসী সবুজের সাথে খুবই অন্যায় করছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সরকার কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মৃধা বলেন, সবুজের কেনা জমির দলিল শতভাগ সঠিক। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু রায় নিজের বিপক্ষে গেলেই মান্নান শালিস অমান্য করে উঠে যান।
প্রবাসীর এই ভোগান্তির স্থায়ী অবসান দাবি করেছেন স্থানীয় প্রতিবেশীরাও। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার কেনা সম্পত্তি উদ্ধারে এবং তাঁর পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন এলাকা।

হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার হিফজ শাখা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ ইং তারিখে চাঁদপুর আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা মাঠে হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এত বিশাল একটি আয়োজন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বিগত বছরগুলোতে আমরা সুন্দরভাবে মাহফিল পরিচালনা করে আসছি।”

Model Hospital

তিনি মাহফিলের বক্তা নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাহফিলে অমূল্য ওয়াজ ও বয়ান পেশ করার জন্য এ বছর আমন্ত্রিত অতিথিদের ইখলাস (খুলুসিয়াত) ও ইলমি গভীরতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কোনো ‘ভাইরাল’ বক্তাকে না ডেকে, সকলের পরামর্শক্রমে সুন্নাহভিত্তিক ও বিশ্বস্ত আলেম-ওলামা এবং খ্যাতিসম্পন্ন আলোচকদের দাওয়াত চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

সভায় বিশেষ অতিথির হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী এবং চাঁদপুর পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোস্তান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা নুরুল ইসলাম, এম. আই. মনিন খান, শফিকুর রহমান সেলিম, চাঁদপুর জেলা কাজী কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির শিক্ষক মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন, হাইমচর মহিলা মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক এবং চাঁদপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আনসারী, তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বন্দুকশী, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ খান, চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান জমাদার এবং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমান খান উৎপল, সাংবাদিক মাসুদ আলম, খাজা তানভীর আহমেদ, মোস্তানবাড়ী পরিবারের সদস্য ফিরোজ মোস্তান, কর্নার ডেভেলপারের কর্মকর্তা জুয়েল, আল-মানার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নেছার আহমেদ এবং হিলশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও আব্দুল মমিন পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন কোব্বাদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা ওছমান গনি, মাওলানা মো. কবির হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল করিম।

সভায় হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে মাহফিলের সার্বিক কামিয়াবি ও হেদায়েতের অসিলা কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে পরামর্শ সভা সমাপ্ত হয়।