বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

আমার জীবনে প্রথম এবং শেষ নির্বাচন হবে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন : মোশাররফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:০০ পিএম
আমার জীবনে প্রথম এবং শেষ নির্বাচন হবে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন : মোশাররফ হোসাইন

চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসাইন বলেছেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ভালো কাজের সুফল যেমন ভোটাররা পায়ে, তেমনি তার অপকর্মের দ্বায়ও ভোটারদের বইতে হয়। শুধু দুনিয়া নয় আখেরাতেও এর জবাব দিতে হয়। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ, পৌরসভার হিসেবে এমন একজনকে নির্বাচিত করবেন– যিনি আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবে না। যিনি সত্যিকার অর্থে আপনাদের সেবক হিসেবে আপনাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

২৯ জুলাই বুধবার বিকেল তিনি চাঁদপুর পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ তরপুপুরচন্ডি এলাকায় বাইতুস সালাম জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন এবং মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন।

আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হোসাইন আরো বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ভূঁইয়া জানাজায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। আমি নিশ্চিত তিনি ভালো কাজ করেছেন বলেই এত মানুষ তার জানাজায় শরিক হয়েছিলেন। সেদিন থেকে আমি মনে মনে স্বপ্ন দেখেছি চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নির্বাচন করার।

আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন জীবনে আর পাওয়ার কিছু নেই। তবে আমার সম্মান হারানোর ভয় আছে। তাই আমি প্রতিজ্ঞা করেছি যদি আল্লাহ আমাকে মেয়র হিসেব কবুল করেন তবে, আপনাদের আমানতের খেয়ানত আমি করবো না। কাল হাশরের মাঠে আমি যেন আপনাদের আমানত ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের হাতে তুলে দিতে পারি, সেই চেষ্টা করবো। আমার একটাই স্বপ্ন চাঁদপুর পৌরবাসীর খেদমত করা। আমার জীবনে প্রথম এবং শেষ নির্বাচন হবে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেটি নির্মাণে সহযোগিতা করার সভার সৌভাগ্য হয় না। আমি আমার সাধ্যমত এই মসজিদ নির্মাণের পাশে থাকব।তবে মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি আমাদেরকে মসজিদের মুসল্লী বাড়ানোর কাজ করতে হবে। আমাদের তরুণ- যুব সমাজ দিন দিন মসজিদ বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। তারা খেলাধুলা বিমুখ হয়ে পড়ছে। মাদক, সামাজিক অপরাধ এবং তথ্য প্রযুক্তি অপব্যবহার তাদেরকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। তরুণদের সমাজকে সঠিক পথে না আনতে পারলে আমাদের সকল অর্জনই বৃথা যাবে। আসুন আমরা সবাই মিলে যার যার অবস্থান থেকে সত্যিকার অর্থে একটি আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করি।

নির্মাণাধীন বাইতুস সালাম জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি টিপু সুলতান প্রধানিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোঃ ইসমাইল হোসেন মাঝি, আরিফ ইকবাল লিটু তালুকদার, সহ-সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির ডাক্তার প্রমুখ। দোয়া এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন পার্শ্ববর্তী বাইতুল আমিন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল হান্নান নিজামী। আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শরীফ উদ্দিন মানিক। এ সময় মসজিদ কমিটির অন্যান্য সদস্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিত ছিলেন।

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত,শোভাযাত্রা, মহড়া ও আলোচনা সভায়
ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, দুর্যোগকালীন মহড়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. সাজ্জাদুর রহমান, প্রোগ্রামার মোহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাকসুদ আলম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোবিন্দ দাস এবং ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু প্রমুখ।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার-ভিডিপির সদস্য, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড প্রায় প্রতিবছরই মানুষের জীবন ও জীবিকায় আঘাত হানে। তবু সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস কাজের ফলে প্রাণহানি আজ অনেক কমেছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর উদ্দেশ্য দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা তৈরি করা। জাতিসংঘ গৃহীত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক (২০১৫–২০৩০) অনুযায়ী দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর মূল কথা হলো আগাম প্রস্তুতি। তাই দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।ইউএনও বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রস্তুতি শুরু হয় প্রত্যেকের নিজের ঘর ও পরিবার থেকে। রান্নার গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা, পরিবারের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আগুন নেভানোর প্রাথমিক ধারণা দেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে করণীয় ঠিক করে রাখা এবং আগাম সতর্কসংকেত বোঝা এসব ছোট ছোট উদ্যোগই বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে। শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার মালিকদের নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সচল রাখতে হবে। এ ধরনের মহড়া মানুষকে বাস্তব পরিস্থিতিতে করণীয় শেখায়। তিনি সবাইকে স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং সম্মিলিত উদ্যোগে নিরাপদ শাহরাস্তি গড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারী লিটন দুর্যোগ প্রস্তুতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দুর্যোগে সবার আগে স্থানীয় মানুষই একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাই সবাইকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওরঙ্গজেব বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, সময়ে দ্রুত সাড়া এবং পরে পুনর্বাসন এই তিন ধাপেই সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। এ জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা ও গুজব এড়িয়ে সরকারি সতর্কবার্তা অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
আলোচনা সভার আগে ও পরে দুর্যোগকালীন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল দেখানো হয়। এ ছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুন মহড়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়। উপস্থিত দর্শনার্থীরা মহড়াটি আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। এতে অংশগ্রহণ করেন বিয়াম (BIAM) ল্যাবরেটরি স্কুলের  একদল শিক্ষার্থী।