বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

কচুয়ায় চাঁদা না পেয়ে সেনাসদস্যের চলাচলের রাস্তার মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২১ পিএম
কচুয়ায় চাঁদা না পেয়ে সেনাসদস্যের চলাচলের রাস্তার মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ

চাঁদা না পেয়ে চলাচলের রাস্তার মাটি কেটে নেওয়ার দৃশ্য।

​​চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার করইশ গ্রামে চাঁদার টাকা না পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্যের বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তার মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাবেক সেনাসদস্য মোহাঃ মিজানুর রহমান (৬২) বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​অভিযুক্তরা হলেন, কচুয়া পৌরসভার ০৮নং ওয়ার্ডের করইশ (কেরানী বাড়ি) এলাকার মৃত আবু সালেহের ছেলে বিল্লাল হোসেন ও শাহাদাত হোসেন গং ।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোহাঃ মিজানুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী অভিযুক্তদের সাথে তার বসতবাড়ির পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বাদী জায়গায় বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করার সময় অভিযুক্তরা তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ক্ষতি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। ​এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ ইং  রাত ১১:০০ ঘটিকা থেকে ভোর ০৪:০০ ঘটিকার মধ্যে যেকোনো সময় অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে বাদীর বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তার মাটি কেটে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় মামলা বা আইনি পদক্ষেপ নিলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।

Model Hospital

​ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে আশিকুর রহমান বলেন, আমার কাছ থেকে বিল্লাল হোসেন রাস্তাটি চলাচলের জন্য সমাধান করে দেবে বলে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি চাঁদা না দিতে চাইলে বিল্লাল গংরা রাতের অন্ধকারে বাড়ির সামনে থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায় এবং চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এখন নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছি।

অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে ০১৭৮৯৮৪৯২৯২ নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ  আজিজুল ইসলাম আকাশ জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।