রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

সড়কে তীব্র যানজটেই সন্তান প্রসব করলেন আমীর হামজার স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৫ পিএম
সড়কে তীব্র যানজটেই সন্তান প্রসব করলেন আমীর হামজার স্ত্রী

সংগৃহীত

হাসপাতালটির দূরত্ব ছিল মাত্র দুই মিনিটের পথ। তবে সেই পথই যেন হয়ে উঠেছিল এক অসহায় পরিবারের কাছে দীর্ঘ আতঙ্কের অপেক্ষা।

তীব্র যানজট, অবৈধ পার্কিং আর বিশৃঙ্খল যান চলাচলে আটকে পড়ে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে সড়কেই সন্তান প্রসব করেছেন গৃহবধূ মোসা. রাজিয়া খাতুন (৩২)। পরে স্বামী আমীর হামজার আর্তনাদে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মীরা মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ড এলাকার সিটি সেন্টারের সামনে ঘটে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা। বর্তমানে রাজিয়া খাতুন শঙ্কামুক্ত থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই মাস আগেই জন্ম নেওয়ায় নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পোশাক শ্রমিক আমীর হামজা জানান, সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় আরো প্রায় দুই মাস বাকি থাকায় হঠাৎ এমন পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন না।

Model Hospital

এরমধ্যে রবিবার দুপুরে কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় স্ত্রী কল করে প্রচণ্ড পেটব্যথার কথা জানান। ছুটি নিয়ে বাসায় ফিরতে কিছুটা দেরী হওয়ায় বিকেল ৫টার দিকে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রিকশাযোগে সাভারের শিমুলতলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু কাছের হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরই সাভার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় তীব্র যানজটে আটকে পড়ে তাদের রিকশা।

আমীর হামজা বলেন, ‘হাসপাতালটি মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে ছিল। কিন্তু যানজটের কারণে ১০ থেকে ১৫ মিনিট আটকে থাকতে হয়। স্ত্রীর অবস্থাও দ্রুত খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। আশপাশের মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইলেও তেমন কেউ এগিয়ে আসেনি।

উপায়ান্তর না দেখে স্ত্রীকে কাঁধে করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েক কদম এগোতেই প্রচণ্ড প্রসববেদনার মধ্যে রাস্তার ওপরই সন্তান প্রসব করেন রাজিয়া। তিনি আরো বলেন, ‘সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

এই অবস্থায় দৌড়ে স্থানীয় সুপার মেডিক্যাল হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে সহযোগিতা চাইলে হাসপাতালের কর্মীরা স্ট্রেচার নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।’

হাসপাতালটির ব্যবস্থাপক মো. আসিফ হামজা জানান, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা রাজিয়ার প্লাসেন্টা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ায় বর্তমানে মা সুস্থ আছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ায় নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে।

হাসপাতালটির আরেক ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ন কবির বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সার্ভিস লেনে অবৈধ দোকানপাট, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যান চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জরুরী রোগী বহনকারী যানবাহনও প্রায়ই আটকে পড়ে।

এতে মাত্র দুই মিনিটের পথ অতিক্রম করতে অনেক সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট, কখনো তারও বেশি সময় লাগে। গতকালের ঘটনা ব্যতিক্রম হলেও এটি প্রতিদিনের দুর্ভোগের ভয়াবহ বাস্তবতাই সামনে এনেছে।’

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ড এলাকার সার্ভিস লেন ও ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে হকারদের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। অনেক স্থানে দোকানপাট ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের অংশও দখল করে রেখেছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন, এতে যানবাহনের গতি আরো ধীর হয়ে পড়ছে।

সাভার উপজেলা ইউএনও বিষয়টি শুনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাভারের অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এরপরও যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং এবং অটোরিকশার দাপটে পথচারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। এই কারণেই একজন প্রসূতি সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজ খবর নিয়েছি। মা বর্তমানে সুস্থ থাকলেও নবজাতকটিকে এনআইসিউতে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিকভাবে তাদের খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে এবং যদি কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রেও আমরা তাদের পাশে থাকব।’

ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়কে সন্তান প্রসবের ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে কচুয়ায় ৮ বছরের শি’শু’র মৃ’ত্যু

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫২ পিএম
পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে কচুয়ায় ৮ বছরের শি’শু’র মৃ’ত্যু

চাঁদপুরের কচুয়ায় বাড়ির পুকুরে সাঁতার কাটতে গিয়ে জিহাদ মিয়াজী (৮) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ভুঁইয়ারা গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত জিহাদ ওই গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে বাড়ির অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে পুকুরে সাঁতার কাটতে নামে জিহাদ। পুকুরের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার সময় সে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে টের পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।  পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর বাবা কোরবান আলী জানান, ঘটনার সময় তিনি মাঠে কাজ করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে ছেলের পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন বাবা-মা।

Model Hospital

স্থানীয়রা জানান, সাঁতার জানা সত্ত্বেও অসাবধানতা বা ক্লান্তির কারণে মাঝপথে সে ডুবে যায়। এ সময় সঙ্গে থাকা আরও এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। ছোট্ট জিহাদের এমন অকালমৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।