শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে দুই গ্রামের ১০ হাজার মানুষ

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৫ পিএম
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে দুই গ্রামের ১০ হাজার মানুষ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর-কাচারিকান্দি গ্রামে ইয়াছিন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সড়ক, বসতবাড়ি ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে গেছে। খাল দখল করে বাড়ি করে বসবাস করা ও কালভার্টের মুখে বাঁধ দেয়ায় এ‌ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ও চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি ভেঙে যাতায়াত করতে কষ্ট হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি যথাযথভাবে খনন ও দখলমুক্ত না করায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, খালটি দ্রুত পুনঃখনন, দখলমুক্ত ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই খালটি সংস্কার ও পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল কাদের জিলানী জানান, এই রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ, একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি হয়ে পড়ে। মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ি করেছে কয়েকজন।
ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক গাজী নাজমুল বলেন, এই জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।