বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঁদপুরের সন্তান এএসআই রুবেলের মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৩ পিএম
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঁদপুরের সন্তান এএসআই রুবেলের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকালে ওয়াশরুম থেকে এপিবিএন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. রুবেল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার রুহিতারপার গ্রামের বাসিন্দা।

শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের একটি ওয়াশরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত রুবেল হোসেন রুহিতারপার গ্রামের সিরাজ প্রধানের ছোট ছেলে। তিনি ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পে এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন।

এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালের রোলকলে এএসআই রুবেল হোসেনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এরপর ক্যাম্পের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করেন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরে শনিবার ভোরে ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের বাবুর্চি শরীফ ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ দেখতে পান। দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেন। ওয়াশরুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা থাকায় জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

Model Hospital

খবর পেয়ে এপিবিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও উখিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা স্টিলের দরজা কেটে এএসআই রুবেল হোসেনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে ওয়াশরুমের ভেতরেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরীক্ষা ও আইনগত তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রুবেল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে তার নিজ এলাকা চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার রুহিতারপার গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।