বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

এমপি মমিনুল হকের সাফল্যের ছয় মাস, বাস্তবায়নের পথে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা

মেহেদি হাসান রিমেল প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৮ এম
এমপি মমিনুল হকের সাফল্যের ছয় মাস, বাস্তবায়নের পথে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা

বছরের পর বছর ধরে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের নানা দাবি, প্রত্যাশা ও উন্নয়নের স্বপ্ন এবার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ ও অগ্রগতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়াকে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির হাট-বাজারের খাজনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা আলোচনা ও ভোগান্তির অবসানে সরকারের ধার্যকৃত ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা খাজনা সরকারি কোষাগারে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

একই সঙ্গে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির বিভিন্ন সড়কে তিন চাকার গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চালক, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

Model Hospital

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এসেছে বড় ধরনের অগ্রগতির উদ্যোগ। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তির ৫০ শয্যার দুটি হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়িত হলে দুই উপজেলার মানুষের জন্য উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার সুযোগ আরও বাড়বে।

তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুটি মিনি স্টেডিয়ামের অনুমোদনপত্র লাভ করেছে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি। এতে নতুন প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে দুটি উপজেলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি শাহরাস্তি মেহের ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের অনুমতি অর্জিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

হাজীগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ১৩নং অলিপুর ইউনিয়ন পরিষদ গঠন। এ প্রস্তাব সরকারিভাবে অনুমোদন লাভ করায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের পথে।

নতুন ইউনিয়ন গঠিত হলে পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মানুষের প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, মাত্র ছয় মাসের সময়ে দীর্ঘদিনের একাধিক দাবি ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এসব উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, প্রশাসনিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

তাদের প্রত্যাশা, এমপি ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং গৃহীত প্রতিটি উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর সুফল পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের কাছে।

চাঁদপুর-৫ আসনের মানুষের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের প্রতি জানানো হয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হোক—এটাই এখন হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির মানুষের প্রত্যাশা।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।