শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

একটি রাস্তার জন্য ৫০ বছর অপেক্ষায় কচুয়ার দুই গ্রামবাসী!

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
একটি রাস্তার জন্য ৫০ বছর অপেক্ষায় কচুয়ার দুই গ্রামবাসী!

কচুয়ায় আকানিয়া ও নাছিরপুর এলাকায় চলাচলের রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে পার হচ্ছে স্থানীয়রা,একটি রাস্তার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের আকানিয়া ও নাছিরপুর গ্রামের একটি রাস্তার অভাবে শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকায় ৪ যুগেও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট চলে গেলে আর খবর থাকে না। রাস্তা ও একটি কালভার্ট ব্রিজ নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কড়ইয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আকানিয়া ও নাছিরপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়িসহ ১৫টি বাড়ির চলাচলের রাস্তার জন্য দীর্ঘ ৫০ বছর অপেক্ষায় রয়েছে বর্তমানে দুর্ভোগে পড়ে থাকা মানুষগুলো।

বিশেষ করে আকানিয়া নাছিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, আকানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ মসজিদ মাদ্রাসার মুসল্লী ও শিক্ষার্থীরা করতে হয় অন্যের বসতবাড়ির উপর দিয়ে,চলাচলের নেই কোন রাস্তা। ওই এলাকার আকানিয়া নাছিরপুর মাজার থেকে মিয়াজী বাড়ির লোকজনের চলাচলের জন্য সরকারি হালট ও খাল থাকলেও ৫০ বছর ধরে রাস্তাটি করা হয়নি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার স্কুল শিক্ষার্থী, শিশু বৃদ্ধরা চলাচলে অভাবনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়।

ভেঙ্গে যাওয়া ৪/৫টি স্থানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দেওয়া হয়েছে গাছ ও বাঁশের সাঁকো। সে সাঁকো থেকে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে যাচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনী কাজে। ওই এলাকার কেউ মারা গেলে জানাজা ও দাফন করার জন্য লাশটি নিতে খালে নৌকা করে ।

Model Hospital

কোন ব্যক্তি অসুস্থ হলে হসপিটালে নিতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের কাঁধে করে। এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। একটি নতুন রাস্তা হলে মানুষের র্দীঘদিনের আশা পূরন হবে এবং স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে।

ওই এলাকার বাসিন্দা বিলকিস বেগম, নুরুন্নাহার বেগম, হাসিনা বেগম, নাসিমা আক্তার, রহিমা বেগম সহ একাধিক নারীরা বলেন,এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়? ছবি তুলে আর কি হবে। অনেক বছর ধরে শুনে আসছি রাস্তা হবে? কিন্তু রাস্তা হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে চলাচলে আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়। আমাদের রাস্তা না থাকায় ছেলে-মেয়েদেরকে বিয়ে করতে এবং দিয়ে দিতে পারছিনা।

এমন কি কেউ আমাদের সাথে আত্মীয়তা করতে চাচ্ছে না। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে,আমাদের রাস্তাটি কেউ করে দিচ্ছে না। সন্তানদেরকেও লেখাপড়া করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারছিনা। বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি,এই রাস্তাটি দ্রুত করে দিয়ে আমরা যেন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি।

ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ মোশারফ হোসেন বলেন, এই এলাকাটি জনবল এলাকা, চলাচলের নেই কোন রাস্তা।এলাকার মানুষের সুবিধার্থে আমাদের নেতা কচুয়ার সংসদ সদস্য ও মাননীয় শিক্ষা ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড.আনম এহছানুল হক মিলন এমপি’র কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো. সজিব হোসেন,বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন,শিশু শিক্ষার্থী রাফি,নয়ন ইসলাম বলেন,স্কুল ও মাদ্রাসায় আশার সময় হলেই দুশ্চিন্তায় পড়ি। অভিভাবকরা অনেক সময় সাথে এগিয়ে দিতে আসে না। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে স্লিপ কেটে বই খাতা নিয়ে অনেক সময় খাদে পড়ে যাওয়া লাগে। আমরা একটি রাস্তা চাই। তাহলে আর কষ্ট থাকবে না।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।