মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় সাচার জগন্নাথ ধাম মন্দিরের কমিটি নিয়ে উত্তেজনা, ইউএনওর হস্তক্ষেপ

মোঃ রাছেল, কচুয়া প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
কচুয়ায় সাচার জগন্নাথ ধাম মন্দিরের কমিটি নিয়ে উত্তেজনা, ইউএনওর হস্তক্ষেপ

​চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহাসিক সাচার জগন্নাথ ধাম মন্দিরের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দির কমিটির সভাপতি বটু কৃষ্ণ বসু গঠনতন্ত্রের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে পূর্বের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মাত্র ৪-৫ জন সদস্যসহ স্থানীয় ৪০-৪৫ জন নিয়ে মন্দিরের সামনে একটি সাধারণ সভা করেন। সেখানে তিনি নিজেকে পুনরায় সভাপতি ঘোষণা করে একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি পেশ করেন।

​এর প্রতিবাদে ২৬ আগস্ট বুধবার মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাসু দেব সাহা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

​অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় আজ দুপুর ১টায় ১নং সাচার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও উভয় পক্ষকে নিয়ে এক জরুরি সভা করেন। সভায় তিনি উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বর্তমান কমিটি গঠনতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

Model Hospital

এছাড়া এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

​ইউএনও আরও জানান, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্যারের সাথে পরামর্শ করে গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি হবে বলে উপস্থিত সনাতনী সম্প্রদায়ের ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে এই আশ্বস্ত করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,  কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু নাছির, ১নং সাচার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ফনি ভূষণ মজুমদার তাপু, সহ-সভাপতি শিবু লাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সাহা, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ পোদ্দার, জন্মাষ্টমী পরিষদের  কমিটির সভাপতি মানিক ভৌমিক, সহ-সভাপতি মানিক মজুমদার সোহাগ এবং যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব বিনয় সরকার প্রমুখ।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় অঙ্গনে আলোচনা

মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ এম
মৈশাদীর চেয়ারম্যান পদে এবার কারা আলোচনায়? উঠে আসছে মানিক পাটোয়ারীর নাম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর মৈশাদী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবায় সম্পৃক্ততা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এর আগে তিনি মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুই পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

স্থানীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানান তাঁর অনুসারীরা।

করোনাকালে সহায়তার দাবি

Model Hospital

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আনছেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, ওই সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ‘সততা স্টোর’-এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ ও নগদ অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন মানিক পাটোয়ারী। তাঁদের মতে, সংকটকালীন এসব উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে প্রত্যাশা

মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা। তবে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এদিকে ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীর সমর্থকদের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। তবে নির্বাচনে প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান, তাঁদের পরিকল্পনা এবং ভোটারদের মতামত নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে মনিরুজ্জামান মানিক পাটোয়ারীকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় কতটা গুরুত্ব পায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য।