বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জ বাজার নেতৃত্বে সভাপতি সালাহ্উদ্দিন, সম্পাদক শাহাবউদ্দিন, সাংগঠনিক জিসান

মাসুদ হোসেন প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১০ এম
হাজীগঞ্জ বাজার নেতৃত্বে সভাপতি সালাহ্উদ্দিন, সম্পাদক শাহাবউদ্দিন, সাংগঠনিক জিসান
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ৩ হাজার ৬৭ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৮০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এতে ঘোড়া প্রতীকে ১৪৮৪ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে মো. সালাউদ্দিন আল ফারুক, আনারস প্রতীকে ৮৪৯ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শাহাব উদ্দিন সাবু এবং মাইক প্রতীকে ১১০৮ ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জিসান আহমেদ ছিদ্দিকী নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে সম্পাদকীয় বিভিন্ন পদ ও ৯টি ওয়ার্ডের ৯ জন কাউন্সিলর পদসহ মোট ৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের ভোটারদের ১৩ থেকে ১৪টি করে পদে ভোট দিতে হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন এবং চাঁদপুর জেলা পুলিশের বিশেষ দল মাঠে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। শনিবার ভোট গ্রহণের পর রবিবার দুপুরের দিকে ফলাফল ফলাফল ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ও নির্বাচন আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহজালাল, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব মো. গোলামুর রহমান এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ও সদস্য মোশাররফ হোসেন।
বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে— মোমবাতি প্রতীকে ৯১৬ ভোট পেয়ে সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, কাপ-পিরিচ প্রতীকে ১০৯৫ ভোট পেয়ে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে বাহালুল আলম খোকন, ডালিম প্রতীকে ১০১৭ ভোট পেয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে মহসিন মিয়াজী, কলম প্রতীকে ৭৩৯ ভোট পেয়ে দপ্তর সম্পাদক পদে হাবীব উল্লাহ, ফুটবল প্রতীকে ৭১৬ ভোট পেয়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে সাজ্জাদুল ইসলাম সজীব ফুটবল প্রতীক, টেলিভিশন প্রতীকে ১৫৪২ ভোট পেয়ে প্রচার সম্পাদক পদে আরমান তালুকদার হৃদয়, সিএনজি প্রতীকে ১৪৩১ ভোট পেয়ে শিল্প সম্পাদক পদে হাফেজ মো. তানভীর হোসেন, গোলাপ ফুল প্রতীকে ১২৩৫ ভোট পেয়ে বাণিজ্য সম্পাদক পদে মোঃ আশরাফ আলী নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে ওয়ার্ড কমিশনার পদে— ২নং ওয়ার্ডে মোবাইল সেট প্রতীকে মোঃ শাহাদাত হোসেন (মিশু), ৩নং ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকে মোঃ আমির হোসেন, ৪নং ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীকে আঃ রহিম, ৫নং ওয়ার্ডে ডাব প্রতীকে মিজানুর রহমান, ৬নং ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকে লিপন পোদ্দার, ৭নং ওয়ার্ডে মোবাইল সেট প্রতীকে মোঃ আল আমিন ও ৮নং ওয়ার্ডে মোবাইল সেট প্রতীকে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও ১নং ওয়ার্ডে তিনজন প্রার্থীকেই বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
সরজমিনে দেখা যায়, নির্বাচন উপলক্ষে দিনটিতে বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সকাল থেকেই কেন্দ্রের সামনে প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যানার-পোস্টার এবং রঙিন সাজসজ্জা চোখে পড়ে। প্রার্থীরা সরব উপস্থিতিতে ভোট প্রার্থনা করেন। মাঝে মাঝে কেন্দ্রের বাইরে কিছুটা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও তা ছিলো ক্ষণস্থায়ী। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি ব্যালটে ১৩/১৪টি করে পদের হিসাব থাকায় ভোট গণনায় দীর্ঘ সময় লেগেছে। ফলে রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে হয়েছে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।