শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে ইউএনও-স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বৈঠক

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ এম
শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে ইউএনও-স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বৈঠক
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও অবহিতকরণ করেছেন নবনিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল।
 গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং টিমওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। সাক্ষাতে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে ইতোমধ্যে জারি হওয়া সরকারি প্রজ্ঞাপন নিয়েও আলোচনা হয়।
এ উদ্যোগকে শাহরাস্তির স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে হাসপাতালের বর্ধিত সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব ও সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও সেবার পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, শাহরাস্তির মানুষের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতের প্রজ্ঞাপন শাহরাস্তির মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও সেবার মান নিশ্চিত করবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যেন অযথা হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানবিক আচরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল বলেন, শাহরাস্তির মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আন্তরিক সহযোগিতা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাস্থ্যখাতের প্রতি গুরুত্ব এবং সরকারের সার্বিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, “৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতের প্রজ্ঞাপন শাহরাস্তির স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি বড় সুযোগ। এই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে জনগণ আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। তবে শুধু অবকাঠামো বাড়ালেই হবে না, রোগীর সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক আচরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল আরও বলেন, “হাসপাতালকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ কাজে আমি সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।
ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল MBBS (SOMC), BCS (Health) ও CCD (BIRDEM)। এর আগে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (NIKDU)-এর নেফ্রোলজি আইসিইউতে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রিতেও বর্তমানে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান হিসেবে ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিলের নাম রয়েছে। নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এ বৈঠককে শাহরাস্তির স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
হিফজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের ৩ দিনব্যাপী মাহফিলের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামী ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল সুষ্ঠু ও সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

(১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার বাদ মাগরিব আল-আমিন মডেল মাদ্রাসার হিফজ শাখা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা মো. আসাদুজ্জামান দেওয়ানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা ইসমাইল হোসেন আজাদ বলেন, “আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ২০২৭ ইং তারিখে চাঁদপুর আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা মাঠে হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এত বিশাল একটি আয়োজন সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। তবে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও সুধীজনদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় বিগত বছরগুলোতে আমরা সুন্দরভাবে মাহফিল পরিচালনা করে আসছি।”

Model Hospital

তিনি মাহফিলের বক্তা নির্বাচন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “মাহফিলে অমূল্য ওয়াজ ও বয়ান পেশ করার জন্য এ বছর আমন্ত্রিত অতিথিদের ইখলাস (খুলুসিয়াত) ও ইলমি গভীরতার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাময়িক কোনো ‘ভাইরাল’ বক্তাকে না ডেকে, সকলের পরামর্শক্রমে সুন্নাহভিত্তিক ও বিশ্বস্ত আলেম-ওলামা এবং খ্যাতিসম্পন্ন আলোচকদের দাওয়াত চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

সভায় বিশেষ অতিথির হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আফছার উদ্দিন মিয়াজী এবং চাঁদপুর পৌরসভার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুস শুক্কুর মোস্তান।

শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা নুরুল ইসলাম, এম. আই. মনিন খান, শফিকুর রহমান সেলিম, চাঁদপুর জেলা কাজী কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, আল-আমিন একাডেমির শিক্ষক মাওলানা মো. নাছির উদ্দিন, হাইমচর মহিলা মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক এবং চাঁদপুর তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেল হোসাইন আনসারী, তরপুরচণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর বন্দুকশী, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির আহমেদ খান, চাঁদপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান জমাদার এবং আশিকাটি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ওহিদুর রহমান খান উৎপল, সাংবাদিক মাসুদ আলম, খাজা তানভীর আহমেদ, মোস্তানবাড়ী পরিবারের সদস্য ফিরোজ মোস্তান, কর্নার ডেভেলপারের কর্মকর্তা জুয়েল, আল-মানার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. নেছার আহমেদ এবং হিলশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক ও আব্দুল মমিন পাটোয়ারী।

এছাড়াও বক্তব্য পেশ করেন কোব্বাদ আলী দাখিল মাদ্রাসার সহসুপার মাওলানা ওছমান গনি, মাওলানা মো. কবির হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুল করিম।

সভায় হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার অভিভাবকবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে মাহফিলের সার্বিক কামিয়াবি ও হেদায়েতের অসিলা কামনা করে দোয়ার মধ্য দিয়ে পরামর্শ সভা সমাপ্ত হয়।