শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে ইউএনও-স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বৈঠক

মো. মাসুদ রানা প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ এম
শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে ইউএনও-স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বৈঠক
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, বিদ্যমান সমস্যা নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও অবহিতকরণ করেছেন নবনিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল।
 গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক পরিস্থিতি, বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং টিমওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। সাক্ষাতে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়ে ইতোমধ্যে জারি হওয়া সরকারি প্রজ্ঞাপন নিয়েও আলোচনা হয়।
এ উদ্যোগকে শাহরাস্তির স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে হাসপাতালের বর্ধিত সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব ও সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন ও সেবার পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন বলেন, শাহরাস্তির মানুষের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতের প্রজ্ঞাপন শাহরাস্তির মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও সেবার মান নিশ্চিত করবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যেন অযথা হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানবিক আচরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল বলেন, শাহরাস্তির মানুষের জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আন্তরিক সহযোগিতা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাস্থ্যখাতের প্রতি গুরুত্ব এবং সরকারের সার্বিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।তিনি বলেন, “৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতের প্রজ্ঞাপন শাহরাস্তির স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি বড় সুযোগ। এই উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে জনগণ আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। তবে শুধু অবকাঠামো বাড়ালেই হবে না, রোগীর সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক আচরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল আরও বলেন, “হাসপাতালকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ কাজে আমি সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।
ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিল MBBS (SOMC), BCS (Health) ও CCD (BIRDEM)। এর আগে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (NIKDU)-এর নেফ্রোলজি আইসিইউতে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রিতেও বর্তমানে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান হিসেবে ডা. মোঃ আবু নাছের শাকিলের নাম রয়েছে। নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এ বৈঠককে শাহরাস্তির স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।