বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে কবি নজরুল স্মরণে সেমিনার ও দেয়ালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৫ পিএম
চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে কবি নজরুল স্মরণে সেমিনার ও দেয়ালিকা প্রকাশ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয়ে চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে সেমিনার ও দেয়ালিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় কলেজের অডিটোরিয়াম রুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।
শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দেন অনুষ্ঠানের সভাপতি। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় এক মননশীল ও আবেগঘন আবহ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুরের উপাধ্যক্ষ জনাব আই কে হেলাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নজরুল গবেষণা পরিষদ, চাঁদপুরের সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. আব্দুল গনি।
সেমিনারে ‘নজরুল সাহিত্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মো. সাইদুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব শরীফ মাহমুদ চিশতী। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লেখক ও পিএইচডি গবেষক জনাব মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মে সাম্য, মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহুমাত্রিক প্রকাশ তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুল কেবল বিদ্রোহের কবি নন; তিনি ছিলেন মানবমুক্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য আজও অন্যায়, বৈষম্য, সংকীর্ণতা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা জোগায়। তাই পরিবর্তনশীল সমাজবাস্তবতায় নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা অনস্বীকার্য।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল দেয়ালিকার মোড়ক উন্মোচন। ‘অনুপ্রেরণায় নজরুল’ শিরোনামের এ দেয়ালিকা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সাহিত্যচর্চা ও নজরুল-ভাবনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেয়ালিকায় নজরুলের জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চাঁদপুরের অধ্যক্ষ জনাব মো. নূর খান; ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, বাবুরহাট ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ জনাব মো. ফয়সাল আহমেদ ফরাজী; ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চাঁদপুরের উপাধ্যক্ষ জনাব মো. রেজাউল করিম; ড্যাফোডিল গ্রুপের কর্পোরেট অফিসার জনাব মো. মাহবুবুল হোসাইন; ড্যাফোডিল গ্রুপের সহকারী কর্পোরেট অফিসার জনাব মো. ইকবাল হোসেন এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুরের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মো. মুরাদ হোসেনসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুরের অধ্যক্ষ জনাব ক্যাপ্টেন এস. আই. এম. জাহানইয়ার, বিএন (অব.)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি নজরুলের জীবনাদর্শ ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সৃজনশীল মনন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি জাতীয় কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর চেতনা ধারণ করে একটি মানবিক, সাম্যভিত্তিক ও সম্প্রীতিময় সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।