শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সামাজিক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে তানিয়া ইশতিয়াক খানকে হেয় প্রতিপন্নের অপচেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম
সামাজিক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে তানিয়া ইশতিয়াক খানকে হেয় প্রতিপন্নের অপচেষ্টা

নারীদের স্বাবলম্বী করা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সামাজিক সংগঠন বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইশতিয়াক খানের সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে অতীতের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি বিকৃত করে এবং অপ্রাসঙ্গিক ও বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। একই সঙ্গে জেলার অভিভাবক মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

তানিয়া ইশতিয়াক খান জানান, ২০২০ সালে সমাজের কল্যাণে ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সমাজের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার স্বার্থে তৎকালীন সরকারের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, মেয়রসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হয়েছে। এসব কর্মসূচির ছবি সে সময় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বর্তমানে ওই ছবিগুলোকে কেন্দ্র করে কয়েকজন রাজনৈতিক নারী নেত্রী ও স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

এ বিষয়ে তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, আমার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের জন্য করা ভালো কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীকে নিয়ে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ ও নীতি-বিবর্জিত মন্তব্য করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সবাইকে কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

Model Hospital

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তানিয়া ইশতিয়াক খানের নেতৃত্বে ‘বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা’ চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নানা মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের স্বাবলম্বী করতে বিনামূল্যে হাতের কাজের প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরিতে সহযোগিতা, সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, চশমা বিতরণ ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, বিভিন্ন মাদ্রাসায় লাইট, ফ্যান ও পানির ফিল্টার প্রদান এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী বিতরণ, শীতার্তদের শীতবস্ত্র ও কম্বল প্রদান এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, হুইলচেয়ার বিতরণ ও কাউন্সেলিংসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।

মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তানিয়া ইশতিয়াক খান জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তানিয়া ইশতিয়াক খানের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তানিয়া ইশতিয়াক খান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও তথ্য বিকৃত করে প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান আর নেই

প্রয়াত সাবেক এমপি ও বরেণ্য সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, বিশিষ্ট কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান(৮২) আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (২৪শে অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি ওপাড়ে পাড়ি জমান।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মাতা আয়েশা খাতুন। তিনি ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তাঁর পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণ্ঠের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখে জাতীয় পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনে তিনি ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘সিটিজেন টিভি’র চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে তিনি স্বক্রিয় রাজনীতিতেও সফল অবদান রাখেন। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ই আগস্ট পর্যন্ত তিনি  জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের অজস্র শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
গুণী এই ব্যক্তিত্বের হঠাৎ প্রয়াণে ফরিদগঞ্জের সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।