বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবধারার চেয়ারম্যান জুলহাস গ্রেফতার

সাইফুল ইসলাম সিফাত প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ পিএম
হাজীগঞ্জে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুবধারার চেয়ারম্যান জুলহাস গ্রেফতার

চাঁদপুরে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা যুবধারা সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান জুলহাস মিয়াকে গ্রেফতার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হাজীগঞ্জ থানার এসআই আবির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জুলহাস মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা গ্রহণ করে আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন। ওই মামলায় জুলহাস মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

গ্রেফতার জুলহাস মিয়া হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নের আবুল বাশারের ছেলে। যুবধারা সমবায় সমিতির চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট, বাকিলা ও হাজীগঞ্জে অফিস রয়েছে বলে জানা গেছে।

Model Hospital

হাজীগঞ্জ থানার এসআই আবির হোসেন বলেন, ‘জুলহাস মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

এদিকে জুলহাস মিয়ার গ্রেফতারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, সমিতিতে টাকা জমা রাখার পর অনেক গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা এখনো টাকা পাওনা রয়েছেন কিংবা প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় ও আদালতে যোগাযোগ করবেন।

তবে জুলহাস মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ

সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ পিএম
সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রই বৃথা যায় : আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন

আনোয়ারা-মতিউর মডেল মাদরাসার বার্ষিক ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন।

চাঁদপুর শহরের আদশ্য বিদ্যাপীঠ আনোয়ারা -মতিউর মডেল মাদরাসায় বার্ষিক ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী জিটি রোড উত্তর এলাকাস্থ মাদরাসা মিলনায়তনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ মোশারফ হোসাইন। তিনি বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা অর্জন করতে ইসলাম তাগিদ প্রদান করেছেন। আর সেই আলোকে যদি আমরা শিক্ষা অর্জন করি— তাহলে সেটা হবে নিজের জন্য, দেশের জন্য এবং মানুষের জন্য। সন্তান সুশিক্ষিত না হলে বাবা-মায়ের সকল পরিশ্রমিত বৃথা যাবে। তাই সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে বাবা মাকে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়। পাশাপাশি তারা যেন এমন শিক্ষা পায়, যা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।

তিনি বলেন, পৌরসভার নাগরিক হিসেবে ১৫নং ওয়ার্ড উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। তার সাথে লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে। বিশেষ করে জিটি রোড উত্তর এলাকার মানুষের জীবন যাপন দেখলে বুঝা যায়, তারা রাষ্ট্রের নাগরিক সুবিধা থেকে কতটা পিছিয়ে আছে। আমার মনে হয় এখানকার নাগরিকদের শুধুমাত্র ভোট আর ট্যাক্সের জন্য পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পৌরসভার সেবা দিতে নয়। আপনাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে, আগামীতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অনেক বেশি সর্তককে এবং দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন ব্যক্তিকে পৌরসভার মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন, যিনি সত্যিকার অর্থে আপনার আমানতের প্রতিদান দিবে।

আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন আরো বলেন, সমাজকে উন্নত করতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আর সেই শিক্ষাটা হতে হবে আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষা। বর্তমানে চাঁদপুরে কিশোর-কিশোরীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সাহেব কিশোরগ্যাং ও মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। এমনসব সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে নানাবিধ উদ্যোগ গ্ৰহণ করছেন। আমাদের সাংবাদিক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজী তার বাবা মায়ের নামে জিটি রোড এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন‌‌। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চা এবং শৃঙ্খলা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এজন্য আমার পক্ষ থেকে মাওলানা মোঃ আবদুর রহমানসহ সকল শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

Model Hospital

মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোঃ আবদুর রহমান গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ সুমন খান ও দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের কামরুল ইসলাম পাটওয়ারী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অভিভাবক সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আমিনুল হক বেপারী।

মাদরাসার শিক্ষক মহিবুর রহমান মহিব্বুলাহর সঞ্চালনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মাদরাসার শিক্ষক মোঃ রাশেদ হোসেন, মোঃ আঃ ছাত্তার খাঁন ও আব্দুল আলী আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ( গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য)  আশিক বিন রহিম, এলাকার মুরব্বি ও শিক্ষানুরাগী মোঃ মিজানুর রহমান মিজি, মোঃ লোকমান হোসেন তালুকদার, মাদরাসার শিক্ষক মোঃ আবুল খায়ের, মোঃ জসিম উদ্দিন ও বোরহান সাইফ।

অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও কবিতা আবৃতিতে শ্রেণীভিত্তিক অংশ নেন। বিজয়ীদের আগামী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে বাদ মাগরিব পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অভিভাবক সমাবেশ শেষে মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেন।