রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নিজের শরীরে স্যালাইন, তবুও থামেনি রোগী দেখা- মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
নিজের শরীরে স্যালাইন, তবুও থামেনি রোগী দেখা- মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১২টা। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। কেউ চিকিৎসকের অপেক্ষায়, কেউ আবার স্বজনকে নিয়ে ছুটছেন জরুরি সেবার আশায়। চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও অপেক্ষমাণ রোগীর দীর্ঘ সারি।

হঠাৎ জানা গেল, জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। নার্সরা তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন।

কিন্তু জরুরি বিভাগের রোগীর চাপ তখনও কমেনি। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল এক ভিন্ন দৃশ্য—নিজের হাতে ক্যানুলা, শরীরে স্যালাইন চলছে; সেই অবস্থাতেই আবার নিজের চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. ইরফান মাহমুদ।

একদিকে নিজের অসুস্থ শরীরকে সামলানোর চেষ্টা, অন্যদিকে জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা। স্যালাইনের ফোঁটা পড়ছে, আর সেই সঙ্গে একের পর এক রোগী দেখছেন তিনি। চিকিৎসকের এমন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার দৃশ্য উপস্থিত রোগী ও স্বজনদেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।

Model Hospital

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের।

জানা যায়, দিনে দুই শিফটে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয় একজন চিকিৎসককে। দীর্ঘ সময়ের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. ইরফান মাহমুদ। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে নিজের অসুস্থতার মধ্যেও রোগীদের ফেলে রাখতে পারেননি তিনি। স্যালাইন চলা অবস্থাতেই জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। পরে অন্য একজন চিকিৎসক এসে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নেন।

ডা. ইরফান মাহমুদের এই দৃশ্য যেন একদিকে একজন চিকিৎসকের দায়িত্ববোধের অনন্য উদাহরণ, অন্যদিকে ভোলা হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেছে।

প্রিয় চাঁদপুরে সংবাদ প্রকাশের পর হাজীগঞ্জের ‘জাউরা’ গ্রুপের রাফি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ পিএম
প্রিয় চাঁদপুরে সংবাদ প্রকাশের পর হাজীগঞ্জের ‘জাউরা’ গ্রুপের রাফি গ্রেপ্তার

প্রিয় চাঁদপুরে সংবাদ প্রকাশের পর গ্রেপ্তার ‘জাউরা’ গ্রুপের সিয়াম হোসেন রাফি!

হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজমিস্ত্রী শুকু

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ভাটরায় ‘জাউরা’ গ্রুপের হামলায় মো. শুকুর আলম (২৫) নামে এক রাজমিস্ত্রী গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় প্রিয় চাঁদপুরে সংবাদ প্রকাশের পর ‘জাউরা’ গ্রুপের সিয়াম হোসেন রাফিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই মো. জুয়েলের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সিয়াম হোসেন রাফিকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Model Hospital

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মারধরের ঘটনায় শুকুর আলম মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এ ঘটনায় তারেক (২০) নামে আরও একজন আহত হন।

আহত শুকুর আলমকে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘ভাটরার জাউরা’ গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অপকর্ম ও হামলার অভিযোগ রয়েছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাওসার আলম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিয় চাঁদপুরে সংবাদ প্রকাশের পর সিয়াম হোসেন রাফি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।