বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

নিজের শরীরে স্যালাইন, তবুও থামেনি রোগী দেখা- মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
নিজের শরীরে স্যালাইন, তবুও থামেনি রোগী দেখা- মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১২টা। ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের ভিড়। কেউ চিকিৎসকের অপেক্ষায়, কেউ আবার স্বজনকে নিয়ে ছুটছেন জরুরি সেবার আশায়। চিকিৎসকের কক্ষের সামনেও অপেক্ষমাণ রোগীর দীর্ঘ সারি।

হঠাৎ জানা গেল, জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। নার্সরা তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন।

কিন্তু জরুরি বিভাগের রোগীর চাপ তখনও কমেনি। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল এক ভিন্ন দৃশ্য—নিজের হাতে ক্যানুলা, শরীরে স্যালাইন চলছে; সেই অবস্থাতেই আবার নিজের চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন ডা. ইরফান মাহমুদ।

একদিকে নিজের অসুস্থ শরীরকে সামলানোর চেষ্টা, অন্যদিকে জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা। স্যালাইনের ফোঁটা পড়ছে, আর সেই সঙ্গে একের পর এক রোগী দেখছেন তিনি। চিকিৎসকের এমন দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার দৃশ্য উপস্থিত রোগী ও স্বজনদেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।

Model Hospital

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের।

জানা যায়, দিনে দুই শিফটে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হয় একজন চিকিৎসককে। দীর্ঘ সময়ের এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শুক্রবার দিনগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. ইরফান মাহমুদ। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে নিজের অসুস্থতার মধ্যেও রোগীদের ফেলে রাখতে পারেননি তিনি। স্যালাইন চলা অবস্থাতেই জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। পরে অন্য একজন চিকিৎসক এসে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নেন।

ডা. ইরফান মাহমুদের এই দৃশ্য যেন একদিকে একজন চিকিৎসকের দায়িত্ববোধের অনন্য উদাহরণ, অন্যদিকে ভোলা হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেছে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।