বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদি আরবে চার মাস ধরে নিখোঁজ ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন, সন্ধান চায় পরিবার

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
সৌদি আরবে চার মাস ধরে নিখোঁজ ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন, সন্ধান চায় পরিবার

সৌদি আরবে নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন আহাম্মেদের (২৮) কোনো সন্ধান পাচ্ছে না তাঁর পরিবার। গত ১১ এপ্রিল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর প্রায় ছয় মাস হতে চললেও শাহিনের অবস্থান সম্পর্কে তাঁদের কোনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।

শাহিন আহাম্মেদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বিষুরবন্দ গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় চার বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তিনি অবিবাহিত।

শাহিনের ভাই শাকিবের ভাষ্য, গত ১১ এপ্রিল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাসায় এসে শাহিনকে ধরে নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে কেন বা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কিছু জানানো হয়নি। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শাকিব বলেন, ‘ভাইকে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর তাঁর ফোনের ডাটা চালু ছিল। ওই সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একাধিকবার ফোন দিয়েছি। ফোনে রিং হয়েছে, কিন্তু কেউ ধরেনি। পরে রাত ৯টার দিকে ফোনের ডাটাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।’

Model Hospital

শাহিনের সন্ধান পেতে গত ১৭ মে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে আবেদন করেন তাঁর ভাই শাকিব। পরে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, শাহিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁদের পক্ষের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আবেদনটি সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।

শাকিব জানান, ঈদের আগে বুধবার বিকেলে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, তাঁদের পক্ষের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দূতাবাস থেকে তাঁকে ফোন করে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে। তবে এরপরও দূতাবাস থেকে কোনো ফোন পাননি তিনি।

কয়েক দিন আগে বিষয়টি জানতে আবার প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে যোগাযোগ করেন শাকিব। তখন তাঁকে একটি মোবাইল নম্বর এসএমএস করে দেওয়া হয় এবং ওই নম্বরে যোগাযোগ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে শাহিনের বিষয়ে কথা বলতে বলা হয়।

শাকিব বলেন, ‘ভাই কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন—আমরা কিছুই জানি না। প্রায় ছয় মাস ধরে পরিবার দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করুক।’

পরিবারের সদস্যরা শাহিন আহাম্মেদের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
হাজীগঞ্জে থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে এসিল্যান্ড ওমর সানি আখন

মানবতা মানে শুধু সহমর্মিতার কথা বলা নয়, বরং বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন মানুষের একটু ভালোবাসা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা এক ব্যাগ রক্তও হয়ে উঠতে পারে অন্য একজনের বেঁচে থাকার আশার আলো। সেই মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আখন।

একজন এ পজিটিভ (A+) রক্তের প্রয়োজন থাকা থ্যালাসেমিয়া রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে রক্তদান করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মানুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবতা, আর দায়িত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসাও একজন মানুষকে মহৎ করে তোলে।

থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকেই নিয়মিত রক্ত গ্রহণ করতে হয়। ফলে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সময়ে নিরাপদ রক্তের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন রোগীর প্রয়োজনে এগিয়ে এসে রক্তদান করে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওমর সানি আখন।

একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে তাঁর এই সহযোগিতা প্রশংসনীয়। তাঁর এ উদ্যোগ অন্যদেরও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।

Model Hospital

রক্তদান শুধু একজন রোগীকে সহযোগিতা করা নয়; কখনো কখনো এটি একটি পরিবারের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরিয়ে আনে, প্রিয়জনকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো জ্বালায়।

মানবিকতার এই গল্প ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে। সমাজের সামর্থ্যবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে কোনো রোগীকে যেন অসহায় হয়ে পড়তে না হয়।