রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদি আরবে চার মাস ধরে নিখোঁজ ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন, সন্ধান চায় পরিবার

মাঈনুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম
সৌদি আরবে চার মাস ধরে নিখোঁজ ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন, সন্ধান চায় পরিবার

সৌদি আরবে নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের প্রবাসী শাহিন আহাম্মেদের (২৮) কোনো সন্ধান পাচ্ছে না তাঁর পরিবার। গত ১১ এপ্রিল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর প্রায় ছয় মাস হতে চললেও শাহিনের অবস্থান সম্পর্কে তাঁদের কোনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।

শাহিন আহাম্মেদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বিষুরবন্দ গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় চার বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। তিনি অবিবাহিত।

শাহিনের ভাই শাকিবের ভাষ্য, গত ১১ এপ্রিল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের বাসায় এসে শাহিনকে ধরে নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে কেন বা কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কিছু জানানো হয়নি। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শাকিব বলেন, ‘ভাইকে নিয়ে যাওয়ার দুই দিন পর তাঁর ফোনের ডাটা চালু ছিল। ওই সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একাধিকবার ফোন দিয়েছি। ফোনে রিং হয়েছে, কিন্তু কেউ ধরেনি। পরে রাত ৯টার দিকে ফোনের ডাটাও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।’

Model Hospital

শাহিনের সন্ধান পেতে গত ১৭ মে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে আবেদন করেন তাঁর ভাই শাকিব। পরে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, শাহিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তাঁদের পক্ষের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আবেদনটি সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে।

শাকিব জানান, ঈদের আগে বুধবার বিকেলে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার থেকে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, তাঁদের পক্ষের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং দূতাবাস থেকে তাঁকে ফোন করে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে। তবে এরপরও দূতাবাস থেকে কোনো ফোন পাননি তিনি।

কয়েক দিন আগে বিষয়টি জানতে আবার প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে যোগাযোগ করেন শাকিব। তখন তাঁকে একটি মোবাইল নম্বর এসএমএস করে দেওয়া হয় এবং ওই নম্বরে যোগাযোগ করে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে শাহিনের বিষয়ে কথা বলতে বলা হয়।

শাকিব বলেন, ‘ভাই কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন—আমরা কিছুই জানি না। প্রায় ছয় মাস ধরে পরিবার দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করুক।’

পরিবারের সদস্যরা শাহিন আহাম্মেদের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
শাহরাস্তিতে ফুটপাত দখলবিরোধী অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা
শাহরাস্তিতে সরকারি সড়কের দুই পাশে পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে মালামাল রাখার দায়ে ৫ ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) শাহরাস্তি পৌরশহরের ঠাকুরবাজার ও কালীবাড়ি বাজারে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ অভিযানে এ দণ্ড দেওয়া হয়।চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক এবং শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামছুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ওই দুটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখছিলেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে স্টিলের সাইনবোর্ড স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে বাজার এলাকায় যানজট তৈরি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ফুটপাত ও সড়কের পাশে মালামাল রেখে চলাচলে বাধা সৃষ্টির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এতে অভিযুক্ত ৫ ব্যবসায়ীকে অভিযানে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ১০৯ ধারায় ৫টি মামলায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়৷ একই সঙ্গে সরকারি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তায় রাখা মালামাল নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান বলেন, “সরকারি রাস্তা ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং বাজারের যানজট নিরসনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে মালামাল রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করে আবার রাস্তা দখল করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে শাহরাস্তি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশ ও উপজেলা আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেন।