শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি-দুঃশাসনে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে; এমরান মিয়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২, ৩:৫৬ পিএম
আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি-দুঃশাসনে গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে; এমরান মিয়া

গাজী মোঃ ইমাম হাসান : দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৩ মার্চ বুধবার বেলা ১১;টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আলহাজ্ব মোঃ এমরান হোসেন মিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি চলছে। সাধারণ মানুষের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

আমরা সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। অবিলম্বে সকল প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে না। হলে এদেশের আপামর জনতাকে সাথে নিয়ে জাতীয় পার্টি কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

এমরান হোসেন মিয়া আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে পড়েছে যে তারা চাইলেই নিজেদের দুর্নীতি দুঃশাসন থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। এই সরকার দুর্নীতি-দুঃশাসন গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে জাতীয় পার্টির কোনো বিকল্প নেই। পল্লীবন্ধু হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আদর্শে গড়া জাতীয় পার্টি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষের সেই সোনালী অতীত আবার ফিরে আসবে।

Model Hospital

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ন আহ্বায়ক অ্যাড. লতিফ শেখ, খোরশেদ আলম খুশু, ইঞ্জিনিয়ার শওকত হোসেন আখন্দ, আবুল কালাম আজাদ টুলু, মোল্লা বোরহান উদ্দিন, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাওলানা জাকির হোসেন হিরু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম খান, পৌর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক শাহ আলম মিজি, সদস্য সচিব ফেরদৌস খান, যুগ্ন আহ্বায়ক শাহজাহান মাতাব্বর, ইব্রাহিম দেওয়ান স্বপন, জেলা মহিলা পার্টির যুগ্ন আহবায়ক পারুল বেগম, জেলা কৃষক পার্টির আহ্বায়ক মমতাজ উদ্দিন মন্টু গাজী, সদস্য সচিব হাসেম দর্জি, জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব নান্নু ভূইয়া, জেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক গোলামুন্নবী লিটন, সদস্য সচিব হান্নান ঢালী, যুগ্ন আহবায়ক খোরশেদ আলম রেজা, সদস্য মাইনুল হোসেন মাইনু, জেলা ছাত্র সমাজের আহবায়ক শরীফ পাটওয়ারী, যুগ্ন আহবায়ক জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’