মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজীগঞ্জে দুই ভাইয়ের কিল-ঘুষিতে ছোট ভাই মসজিদের মুয়াজ্জিনের মৃত্যুর অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২২, ২:৪৫ পিএম
হাজীগঞ্জে দুই ভাইয়ের কিল-ঘুষিতে ছোট ভাই মসজিদের মুয়াজ্জিনের মৃত্যুর অভিযোগ

সাইফুল ইসলাম সিফাত : হাজীগঞ্জে সম্পত্তি বিরোধের জেরে বড় দুই ভাইয়ের কিল-ঘুষিতে ছোট ভাই মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার সকালে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাঁড়িয়াইন গ্রামের নতুন মিজি বাড়িতে এ মারামারির ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. সেলিম হোসেন (৪৫) ওই বাড়ির মৃত সামছুল হকের ছেলে। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ বাইতুল মামুর মসজিদের সহকারী ইমাম (মুয়াজ্জিন)। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক।

অভিযুক্তরা হলেন, নিহতের বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম (৫২) ও তার চাচাতো ভাই মৃত ছেরাজুল ইসলামের ছেলে সোলেমান মিয়াজি (৬০)। এ ঘটনায় আহত নজরুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, এদিন সকালে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে বড় ভাই নজরুল ইসলাম ছোট ভাই সেলিমের সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদ সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হলেও সেলিমের পক্ষের লোকজন না আসায় বৈঠকের কিছুটা দেরী হয়।

Model Hospital

এর মধ্যে নজরুল ইসলাম ও মো. সেলিমের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ের মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে দুজনেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে নিজ নিজ পরিবাবরের লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আহত নজরুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের বড় মেয়ে আয়েশা আক্তার জানান, আমাদের ঘর তোলা (নির্মাণ) কে কেন্দ্র করে এদিন সকালে বাবা ও জেঠার (নজরুল ইসলাম) সাথে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে জেঠা ও সোলেমান জেঠা একসাথে বাবাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। পরে বাবা অচেতন হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এসময় তার বাবা হৃদরোগী ছিলেন বলে আয়শা আক্তার জানান।

নিহতের স্ত্রী পেয়ারা বেগম জানান, ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার জা (নজরুলের স্ত্রী) আমাকে মারধর করলে আমি ঘরে চলে আসি। এরপর বাহিরে কি হয়েছে, আমি তা দেখিনি। পরে আমার স্বামী ঘরে এসে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন (অচেতন হয়ে পড়েন)।
এ দিকে হাসপাতালে ও নিজ বাড়িতে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অপর অভিযুক্ত সোলেমান মিয়াজীকেও তাঁর বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কথা হয় তার পুত্রবধু প্রিয়ার সাথে। তিনি জানান, শুনেছি বাবাকে (শশুর) সেলিম কাকা গালমন্দ করে মারতে আসেন। পরে তার ভাই (নজরুল ইসলাম) বাধা দেন এবং সেলিম কাকাকে তিনি মারধর করেন। আমার বাবা নির্দোশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য খোরশেদ জানান, তারা পাঁচ ভাই ও দুই বোন। পথের জায়গা নিয়ে নজরুল ইসলাম ও সেলিমের মধ্যে বিরোধ। আজ (রোববার) সকালে সালিশি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেলিমের পক্ষের লোকজন আসতে দেরী করায় এবং সালিশি বৈঠকের দেরী হওয়ায় আমি ওই বাড়ি থেকে চলে আসি।

তিনি বলেন, পরে সালিশদার আব্দুস সাত্তারের মাধ্যমে জানতে পারি তারা হাতাহাতি (মারামারি) করছেন। এরপর আমি ঘটনাস্থলে ছুটে আসি দেখি এরা সবাই হাসপাতালে।

সালিশদার আব্দুস সাত্তার জানান, সেলিমের পক্ষের লোকজন না আসায় দরবারের দেরী হচ্ছিল। তাই আমি তাদের বাড়ির বাহিরে এসেছিলাম। পরে বাড়ির ভিতরে তাদের ডাক-চিৎকার শুনে মেম্বারকে বিষয়টি জানাই। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর দেখি, সেলিম ও নজরুলকে অজ্ঞান (অচেতন) অবস্থায় গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিমানবন্দরে সংবর্ধিত রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
বিমানবন্দরে সংবর্ধিত রাজারগাঁওয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নং রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল করিম বেপারী দেশে ফেরায় তাকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবর্ধনা দিয়েছেন দুই শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। রাজারগাঁও ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রবীণ-নবীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এতে অংশ নেন।

আব্দুল করিম বেপারী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি রাজারগাঁও ইউনিয়নবাসীর সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। সমান ভাবে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি-চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক মমিন ভাইয়ের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করব। রাজারগাঁও ইউনিয়নকে অন্যায়, অনিয়ম,অপরাধ, দুর্নীতি, লুটপাট মুক্ত – একটি সুন্দর ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি।”

Model Hospital

এদিকে সংবর্ধনায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বলেন, তারা আব্দুল করিম বেপারীকে রাজারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের প্রবীণ ও নবীন নেতাকর্মী, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

শেষে আব্দুল করিম বেপারী বলেন, “আমার নেতাকর্মী, সমর্থক ও ইউনিয়নবাসীর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দেখিয়েছেন, তা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।”