শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে রায়েরকান্দিতে বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২২, ৫:১০ পিএম
মতলব উত্তরে রায়েরকান্দিতে বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের রায়েরকান্দি গ্রামে বসতঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় মৃত আবু তালেব পাটোয়ারীর ছেলে মো. মজনু পাটোয়ারী (৮০) বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নজরুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪০) খলিল ছৈয়ালের ছেলে অলু ছৈয়াল, মমিন ছৈয়ালের ছেলে ইকরাম ছৈয়াল, শামছু ছৈয়ালের ছেলে জাহাঙ্গীর ছৈয়াল’সহ অভিযোগে উল্লেখিত ১৪ জন বিবাদীরা বাদীর একই সমাজের লোক হয়।

সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে বিবাদীদের সাথে বিরোধ হইলে, উক্ত বিরোধের জের ধরে অপমান অপধস্ত করিতে থাকার এক পর্যায় এলোপাথারী কিলঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফুলা জখম করে। সকল বিবাদীরা খুন খারাবী করার জন্য লাঠি, সোটা, রড, সাবল ইত্যাদি দেশিয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইতে থাকিলে, প্রানের ভয়ে দ্রুত চলিয়া আমাদের বসত ঘরে প্রবেশ করি। সকল বিবাদীরা বিবাদীরা’সহ তাদের সহযোগী অজ্ঞাত নামা ১০/১২ জনকে সাথে নিয়া বে-আইনী জনতাবদ্ধে অনধিকারে আমার বসত বাড়ীতে হামলা দেয়। সকল বিবাদীরা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং আমার বসত বাড়ীর টিনের বাউন্ডারীর বেড়া এলোপাথারী পিটাইয়া, কোপাইয়া এবং আমার বিল্ডিং এর থাই গ্লাস ভাংচুর করে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।

Model Hospital

পরিবারের লোকজনের উপর এলোপাথারী কাঠের লাঠি ও লোহার রডদ্বারা পিটাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা ফুলা জখম করে। রিয়াদ হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রডদ্বারা বারি মারিলে, উক্ত বারি তার ডান হাতদ্বারা প্রতিহত করিলে, ডান হাতে জখম প্রাপ্ত হয়। এলোপাথারী পিটাইয়া আমার শরীরের বিভিন্নস্থানে নিলা ফুলা জখম করিয়া মাটিতে ফেলে দিলে, আমাকে রক্ষা করিতে তাদেরও এলোপাথারী পিটাইয়া চোখের কোঠায়, হাতে, পিঠে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা ফুলা জখম করে।

আছমা বেগমকে টানা হেছড়া করিয়া শ্লীলতাহানী ঘটায়, গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। বসত ঘরের সকল আসবাব পত্র ভাংচুর করিয়া প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। স্টীল আলমারী ভেঙ্গে প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার যাহার মূল্য ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়া যায়।

জীবন রক্ষার্থে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করিলে থানা পুলিশের সহায়তায় আমার বিবাদীদের কবল হইতে প্রাণে রক্ষা পায়।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ছৈয়াল জানান, মারামারি ও ভাংচুরের ঘটনা সত্য না। মসজিদের জমি নিয়ে কথা কাটাকাটি হলেও মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’