শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদকে সামনে রেখে মতলব দক্ষিণে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২২, ৪:৫৮ পিএম
ঈদকে সামনে রেখে মতলব দক্ষিণে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং
মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্মে আতংকিত স্থানীয় এলাকাবাসী।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দশ থেকে পনের বছর বয়সী ছেলেদের ১৫/২০ জনের একাধিক দল এলাকায় শান্তি শৃংখলা বিনষ্ট করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা বাড়ার পাশাপাশি আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার সদরের আশপাশের এলাকা এবং উপজেলার নারায়ণপুর বাজার এলাকা, বাড়ৈগাঁও, হুরমহিষা, রসূলপুর, আশ্বিনপুর, গোবিন্দপুর, কালিকাপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং হঠাৎ করেই নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এখনি যদি কিশোর গ্যাংদের লাগাম টেনে না ধরা হয়, তবে এরা এক সময় এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।
কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্মে সম্প্রতি মতলবের খাদেরগাঁও ইউনিয়নের হুরমহিষা গ্রামে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। নারায়ণপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮ম শ্রেণির মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী। এ ঘটনায়ও মামলা হয়েছে। একই ইউনিয়নের বাড়ৈগাঁও ও গোবিন্দপুর গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিক মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কিশোর গ্যাং এর সর্বশেষ শিকার নারায়ণপুর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমর ভক্ত। যিনি গত ২১ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় নিহত হন। সে ঘটনায় আটক হওয়া অমর ভক্তের কর্মচারী জয় বিশ্বাস ওরফে অনিক ও হৃদয় সুত্রধর বিপিএলের জুয়ার বাজিতে কয়েক লক্ষ টাকা ঋণ হওয়ায় টাকা পরিশোধের জন্য খুনের পরিকল্পনা করে বলে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়।
কিশোর গ্যাংয়ের চরিত্রও মাঝে মাঝে বদলায়। তারা ইদানিং বিচ্ছিন্ন ভাবে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগমতো সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের অপকর্ম করার অপচেষ্টা চালায়।
কিশোর গ্যাংয়ের গ্রুপ নারায়ণপুর বাজারের কালিবাড়ি মন্দিরের গেইট ও সরকারি গোডাইনের পাশেসহ নারায়ণপুর আল বারাকা মডেল স্কুল সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় উচ্ছৃংখল আড্ডা দেয়। এরা স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের অশ্লীল ভাষায় ইভটিজিং করে থাকে। তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলে এলাকার বয়স্কদের সাথে খারাপ আচরণ করে তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণপুর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক গ্রুপের বেপরোয়া মারামারিতে আমরা নির্বিঘ্নে ব্যববা পরিচালনা করতে পারছিনা। তারা কথায় কথায় মারামারিতে লিপ্ত হয়। ইতিমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ী কিশোর গ্যাংয়ের হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
এলাকার সচেতন মহল এই কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, এরা বেপোরোয়া গতিতে চলা ফেরা করে, উচ্ছৃঙ্খল কথা বলে, স্কুল কলেজ মাদরাসার সামনে ছাত্রীদের ইভটিজিং করে। এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি করে৷ রাস্তার মোড়ে বাজারের মোড়ে অহেতুক জটলা সৃষ্টি করে আড্ডা দেয়। এদের উৎপাত থেকে আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদে রাখতে চাই।
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, এবিষয়ে আমাদের কঠোর পদক্ষেপ রয়েছে। ঈদের পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিসহ বসে সচেতনতা মূলক সভা করবো। কিশোর গ্যাংদের হামলার ঘটনায় যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হয়েছে। আমি নিজে গিয়েছি এবং থানা থেকে ফোর্স পাঠিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশে থাকতে চাই। এ জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’