শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২, ২:৪৩ পিএম
কচুয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

মো: রাছেল : কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রয়াত উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের স্মরণে স্মৃতি চারণ সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সোহাগ চৌধুরী বলেন- কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতৃবৃন্দদের স্মরণে স্মৃতি চারণ সভা ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন সোহাগ চৌধুরীর সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন- কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন দুলাল, কচুয়া পৌর মেয়র নাজমুল আলম স্বপন, উপ-দপ্তর সম্পাদক কবির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মুন্সী, কচুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন সোহেল ভূঁইয়া, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আকতার হোসেন রানা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুুব আলম, মুক্তিযুদ্ধা আনোয়ার সিকদার, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক ভৌমিক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল প্রধান জালাল, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শুভজিৎ দাস প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর জব্বার বাহার, প্রচার সম্পাদক জি কে আলমগীর, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ওহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রাণধন দেব, বাজার কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন বাটা, উত্তর কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আখতার হোসেন, গোহট উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লিটন মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, গোহট দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম মিয়া, পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সুমন মিয়া, উপজেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব প্রাঞ্জল, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন দিপু, কচুয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ মজুমদার অনিক, চাঁপই শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক শেখ সজিব সহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Model Hospital

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’