শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার প্রকাশক কাজী আবু জাফরের বৌভাত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২, ৮:০০ পিএম
দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার প্রকাশক কাজী আবু জাফরের বৌভাত
মতলব উত্তর প্রতিনিধি : জমকালো আয়োজনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী ‘লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এবং দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি, মোহনপুর পর্যটন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান এর একমাত্র পুত্র কাজী আবু জাফরের বৌভাত উপলক্ষে মোহনপুর পর্যটনের দ্যা শিপইন এর  হল সেজেছে বর্ণিল সাজে। শুক্রবার জুমার পরই দ্যা সীপ ইন এর হলে শুরু হয় দৈনিক সংবাদ সারাবেলা  পত্রিকার প্রকাশক, মোহনপুর পর্যটনের সিইউ ও বিলডেক্স গ্রুফের পরিচালক কাজী আবু জাফরের বৌভাত অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানস্থলে আলাদা স্টেজে বসেছেন কনে সিফাত নুসরাত ।
 বৌভাত অনুষ্ঠানে  প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারী কর্মকর্তাগন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার লোকজন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে এসেছেন। আগত অতিথিদের খোশগল্পে বৌভাত অনুষ্ঠান উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রায় ৩ হাজার অতিথি বৌভাত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন ৷
কাজী আবু জাফর নিজের জীবন সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নেন রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আলী আক্কাস ও বাঘা উপজেলার যুবমহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পাপিয়া আক্তারের জোষ্ঠ্য কন্যা সিফাত নুসরাতকে। বৌভাত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় মোহনপুর পর্যটনের দ্যা সীপ ইন এ ।
এদিকে, কাজী আবু জাপরের বৌভাত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দ্যা সীপ ইন এর চতুর্দিকে শাজানো হয় বাহারি রঙ্গে ৷
বৌভাত অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসছেন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড.শামসুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহাম্মেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী, ছেংগারচর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)  মোঃ হেদায়েত উল্লাহ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন খান সুফল, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি সিরাজুল ইসলাম লস্কর, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড.মনোয়ারুল ইসলাম, মতলব উত্তর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফারুক, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান মোঃ জহির, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদাউস আলম, ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন সরকার মুকুলসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের কর্মকর্তাণ, বিভিন্ন  ইউপি চেয়ারম্যান,ইউপি সদস্য ও ছেংগারচর পৌরসভা, মতলব পৌরসভা ও  চাঁদপুর পৌরসভার কাউন্সিলরগণ কাজী আবু জাফরের আত্বীয় স্বজন, কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ ৷

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’