বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে ফ্রি ফায়ারে আসক্ত কিশোরের আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২, ৪:১৪ পিএম
হাইমচরে ফ্রি ফায়ারে আসক্ত কিশোরের আত্মহত্যা
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচরে পাবজি ফ্রি ফায়ারে আসক্ত ৮ম শ্রেনীর ছাত্র ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে চরভৈরবী ইউনিয়নের দক্ষিন পাড়াবগুলা গ্রামের নিজ বাড়ির নিকটে একটি বাগানে গাছের সাথে ওড়না পেছিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ঘটনাটি ঘটে। মৃত কিশোর ঐ গ্রামের দেলোয়ার গাজির ছেলে জনি গাজি (১৫)।
সরজমিনে গিয়ে জানাজায়, চরভৈরবী ইউনিয়নের দক্ষিন পাড়াবগুলা গ্রামের দেলোয়ার গাজি জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মত গতকাল বুধবার মাছ ধরতে যান নদীতে। স্ত্রীসহ তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন ঘরে । তারা প্রতিদিনের মত সবাই রাতে ঘুমিয়ে থাকেন। মেঝো ছেলে জনি সকালে ভোরে ফজর নামাজ পড়তে স্থানীয় মসজিদে যান। নামাজ শেষে বাড়িতে এসে কিছুক্ষন পরই ঘর থেকে চলে যায়। চলে যাওয়ার এক থেকে দেড় ঘন্টা পর পাশ্ববর্তাী বাড়ির এক মহিলা ডাক চিৎকার শুনে বাগানে গিয়ে দেখেন কিশোর জনি গলায় ওড়না পেছিয়ে ফাঁস দিয়ে গাছের সাথে ঝুলে আছেন। তাৎক্ষনিক লোকজন হাইমচর থানায় জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে মৃত কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে হাইমচর থানা পুলিশ কিশোরের লাস ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরন করেন।
স্থানীয় কয়েকজন মহিলার কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, ছেলেটি মোবাইলে আসক্ত ছিল। ফ্রিফায়ার গেম্স খেলতে খেলতে তার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা জানতে পেরেছেন মবোইলে গেম্স খেলার নেশায় ছেলেটি ঠিকমত স্কুলে যেত না। তাই তার বাবা তাকে গেম্স না খেলার জন্য নিষেধ করেন। হয়তো রাগে ক্ষোভে সে আত্মহত্যা করেছে বলে তাদের ধারনা ।
কিশোরের পিতা দেলোয়ার গাজি জানান, প্রতিদিনের মত গতকালকেও আমি নদীতে মাছ ধরতে যাই। সকালে আমাকে ফোন করে বলে বাড়িতে আসতে। এখন এসে দেখি আমার ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে। কেন আত্মহত্যা করলো কিকারনে করলো আমার কিছুই জানানেই।
কিশোরের মা’ জলেখা বেগম বলেন, আমার ছেলের সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিলনা। সে মাঝে মধ্যে স্কুলে যেত। নদীতেও মাছ ধরতো। রাতে ঘুমানোর সময় আমাকে বললো মা’ আমাকে ফজরের নামাজের সময় উঠিয়ে দিয়েন। আমি নামাজ পড়বো। সে নিজে নিজে ভোরে নামাজ পড়তে যায়। নামাজ পড়ে এসে আবার বাহিরে যায়। বাহিরে গিয়ে বাবা আর ঘরে আসে না। লোকজনের চিৎকার শুনে বাগানে গিয়ে দেখি বাবা আমার গাছের সাথে ঝুলে আছে। তিনি বলেন, আমার ছেলের অনেক রাগ ছিল। কোন কিছু বললেই রেগে যেত। কথা একেবারেই কম বলতো। মাথায়ও সমস্যা থাকার করনে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন জানান, গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাস উদ্ধার করে চাঁদপুর মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা যাচ্ছে বাবা’ মা’র শাসনের ফলে রাগান্বিত হয়ে ছেলেটি আত্মহত্যা করে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।