শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

উপজেলা ও পৌর জাপার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২, ১:৫৩ পিএম
উপজেলা ও পৌর জাপার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায়

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের কৃতি সন্তান, জাতীয় পাটি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা জাতীয় পাটির আহবায়ক এমরান হোসেন মিয়া বলেছেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর চাঁদপুর জেলা জাতীয় পা‌র্টির স‌স্মেলন অনু‌ষ্ঠিত হ‌তে যা‌চ্ছে।

এই সন্মেলনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে জাতীয় পাটি কে শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করা হবে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল থেকে সংগঠন কে ঢেলে সাজানো হবে। তাই আগামী ১১ জুন স‌ম্মেলন‌কে সফল কর‌তে সকল‌ নেতাকর্মী‌দের কে প‌রিশ্রম কর‌তে হ‌বে এবং সন্মেলন সফল করতে হবে ।

তিনি বলেন, জাতীয় পাটি দেশ পরিচালনাকালে চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কজন মন্ত্রী দিয়েছেন। এই জেলায় শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে জাতীয় পাটি ছিলো। তাই পল্লীবন্ধু প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান জনবন্ধু জিএম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পাটি কে আগামীতে দেশ পরিচালনায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে চাঁদপুর থেকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হলো।

তিনি স‌ম্মেল‌নে পা‌র্টির চেয়ারম‌্যানসহ কেন্দ্রীয় অ‌নেক নেতৃবৃন্দ আসছে তাই এ জেলার সুনাম অক্ষুন্ন রাখ‌তে সকল দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বে সকল কে কাজ কাজ করার আহবান জানান । তিনি বলেন, সন্মেলন হবে, একটি পদে একাধিক প্রার্থী থাকবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে আমরা এরশাদ সৈনিকরা এক ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও প্রতিহিংসার রাজনীতি জাতীয় পাটি করে না।

Model Hospital

আপনারা প্রত্যেকে স্ব স্ব উপ‌জেলা, ইউ‌নিয়ন ও পৌর এলাকার নেতাকর্মী‌দের উপ‌স্থি‌তি নি‌শ্চিত কর‌বেন। সক‌লের উপ‌স্থি‌তি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃ‌ন্দের কা‌ছে চাঁদপুরকে তু‌লে ধর‌বে।

এমরান হোসেন মিয়া গতকাল ২০ মে শুক্রবার সকালে চাঁদপুর শহরের ষোলঘরস্হ পালকি কমিউনিটি সেন্টারে আগামী ১১ জুন জেলা জাতীয় পাটির সন্মেলন উপলক্ষে জেলা জাতীয় পাটির ১৫ টি ইউনিট বা ৮ টি উপজেলা ও ৭ টি পৌর জাতীয় পাটির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা গুলো বলেন।

জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা জাতীয় পাটির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডঃ আঃ লতিফ শেখের পরিচালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পাটি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাদেশিক বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম খুশু, জাতীয় পাটি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী শওকত আখন্দ আলমগীর, আবুল কালাম আজাদ টুলু, বোরহান উদ্দিন মোল্লা, জাতীয় মহিলা পাটির চাঁদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক পারুল বেগম, জেলা জাতীয় পাটির সদস্য রফিকুল ইসলাম খান, চাঁদপুর সদর উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি মাওঃ জাকির হোসেন হিরু, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পাটির আহবায়ক আঃ আউয়াল পাটোয়ারী, কচুয়া উপজেলা জাতীয় পাটির সভাপতি এমদাদুল হক রুমন, কচুয়া পৌর জাতীয় পাটির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, শাহরাস্তি উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ মোঃ শাহজালাল, হাজীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পাটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা জাতীয় পাটির সাধারণ সম্পাদক ডিএম আলাউদ্দিন, ছেঙ্গারচর পৌর জাতীয় পাটির সভাপতি সেলিম মোল্লা, চাঁদপুর পৌর জাতীয় পাটির আহবায়ক শাহআলম মিজি, যুগ্ম আহবায়ক শাহজাহান মাতাব্বর, ইব্রাহিম দেওয়ান স্বপন, সদস্য সচিব ফেরদৌস খান, জেলা জাতীয় শ্রমিক পাটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নান্নু ভুইয়া, জেলা জাতীয় যুব সংহতির আহবায়ক গোলামুন্নবী লিটন, সদস্য সচিব মোঃ হান্নান ঢালী, যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম রাজা, জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম, সদস্য সচিব অ্যাডঃ মোঃ আরিফ হোসেন, পেশাজীবি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক জে এইচ টিপু, জাতীয় সাইবার পাটির জাকারিয়া হান্নান প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’