শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্রীড়া বান্ধব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বে সমাদৃত; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মে, ২০২২, ৩:১১ পিএম
ক্রীড়া বান্ধব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বে সমাদৃত; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম মনির : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি বলেছেন, দেশে আজ উন্নয়ন জোয়ার বইছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুগান্তকারী পদক্ষেপে বাংলাদেশ উন্নত দেশে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে। দেশে খাদ্যের সংকট নেই, বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই, উন্নয়নের বাজেট ঘাটতি নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুখে যা বলেন কাজেও তাই করেন।

বর্তমানের বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। সফল জাতি গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে সমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। ক্রীড়া শক্তিকে আমরা যতটা বিকশিত করতে পারব, আমাদের ততটাই উন্নয়ন হবে।

বুধবার (২৫ মে) বিকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনাকালেই বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলো স্পর্শ করেছে।

Model Hospital
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন পদ্মা সেতু করবেন, তিনি করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন বাংলাদেশের মানুষ না খেয়ে থাকবে না। তিনি বলেছিলেন বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে, তাই হয়েছে। তাই বর্তমান আওয়ামী লীগ জনগণের প্রিয় সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর জেলাসহ চাঁদপুরে ৭ টি উপজেলাতে স্টেডিয়াম হবে। সারাদেশে উপজেলাগুলোতে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম হবে। এসব উন্নয়নের রুপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর সহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে একজন ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। আমার জানা নেই, বিশ্বের আর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মতো এতোটা ক্রীড়া অন্তপ্রাণ কিনা!

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে আমাদের ক্রীড়াঙ্গন। ক্রিকেট, আর্চারি, শ্যুটিং, হকি, দাবা, সুইমিং ও ফুটবলসহ সব খেলায় আমাদের খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একের পর এক সাফল্য নিয়ে আসছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুখে-দুঃখে সবসময় আমাদের খেলোয়াড়দের পাশে ছায়ার মতো থাকেন। স্পোর্টসের উন্নয়নে বা যেকোন ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া সংগঠকের যেকোন সমস্যায় তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান।

খেলার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী শরিফুল হাসান।
বঙ্গবন্ধু টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় বনাম নাউরী আহম্মাদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ১৫ ওভার করে খেলা হয়। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক একে আজাদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান কবির আহমেদ খান, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনজুর আহমদ, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ছেঙ্গারচর পৌরসভার প্রশাসক মো. হেদায়েত উল্লাহ প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’