বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

পদ্মা সেতু দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁদপুরের ৩ যুবকের জানাযায় জনতার ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুন, ২০২২, ৪:০৮ পিএম
পদ্মা সেতু দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁদপুরের ৩ যুবকের জানাযায় জনতার ঢল
মাসুদ হোসেন : পদ্মা সেতু দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের তিনজনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাত পৌনে একটার সময় মুন্সিগঞ্জের নিমতলি হাসারা হাইওয়েতে কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজির সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চাঁদপুরের ৩ যুবক ও বিক্রমপুরের ৩ জন।
জানা যায়, চাঁদপুরের ৩ যুবকের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইচলী এলাকার কলমতর গাজী বাড়ির এনায়েত উল্যাহ গাজীর একমাত্র ছেলে সামাদ গাজী (২৪), শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দমকের গাঁও কাজী বাড়ির জাহাঙ্গীর কাজীর ছেলে জিহাদ কাজী (২০) ও একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কেতুয়া পাটওয়ারী বাড়ির আবুল কালাম পাটওয়ারীর ছেলে আহাদ পাটওয়ারী (২০)। এবং অন্য তিনজনের মধ্যে তাদের বন্ধু বিক্রমপুরের একজন, সিএনজি চালক একজন ও ঐ এলাকার যাত্রী একজন।
চাঁদপুরের ৩জন ঢাকায় নিউ মার্কেট এলাকায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ছিলেন এবং একে অপরের আত্মীয়। হাইওয়ে টহল পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন। এদিকে আহাদ পাটওয়ারী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে জ্ঞান ফিরলে অন্য বন্ধুদের মৃত্যুর কথা জানতে পেরে সাথে সাথেই স্ট্রোক করে তারও মৃত্যু হয়।
সামাদের বড় ভাই জানান, তারা চার বন্ধু মিলে শুক্রবার পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার কথা ছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রওনার দেয়ার কথা থাকলেও রাত ১০-১১টার দিকে রওনা দেন একটি সিএনজি নিয়ে। তাদের সিএনজিতে একজন যাত্রীও উঠেন। সিএনজি চলা অবস্থায় সামনে একটি লরি ইউটার্ন করার সময় সিএনজি স্কুটারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন দিক থেকে আঘাত করে। এসময় সিএনজিতে থাকা পাঁচ যাত্রী ও চালকসহ সকলেই ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেয়ার পর নিহত হন। চাঁদপুরের তিনজনের সাথে বিক্রমপুরের দুইজনের মধ্যে একজন তাদের বন্ধু ও অন্যজন তাদের রিসিভ করার কথা ছিল। এবং ইলিশা হোটেলে ডিনার করে ওখানেই রাত্রীযাপন করবে বলে জানা যায়।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পুলিশের কাছে আবেদন করে নিয়ে আসা হয়েছে। এবং দুর্ঘটনায় নিহতদের ভিন্ন ভিন্ন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
মতলবে ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির দুই ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিয়াম উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবাহানের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। তবে কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে বাবা আবদুস সোবাহান তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন।

হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। এ সময় তার নাক ও মুখ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে রওনা দেওয়ার আগেই রাত নয়টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

Model Hospital

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন মামুন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তরুণের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে বাবা আবদুস সোবাহান বলেন, আমার পোলাডার এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর আছিল। ওরে কইছিলাম ডাক্তারের কাছে যাইতে, কিন্তু হুনল না। অবস্থা বেশি খারাপ হইলে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনলাম। হাসপাতালে আনার পরই নাক-মুখ দিয়া রক্ত পড়া শুরু হয়। ঢাকা নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও ঠিক করছিলাম, কিন্তু তার আগেই আমার সব শ্যাষ অইয়া গেল।