শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতুর নির্মাণ কাজে ধীরগতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০২২, ১২:২১ পিএম
ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতুর নির্মাণ কাজে ধীরগতি
এস. এম ইকবাল :

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকার প্রবাহমান নদীর উপর একের পর এক সেতু নির্মাণ করছে। ফলে শুধু দুই পাড়ের নয়, সেতু সংযোগকারী সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীরা উপকৃত হয়। উন্নয়ন হয় সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক গতিধারা। কিন্তু নির্মানাধীন সেতুটির যদি কাজ অসম্পন্ন অবস্থায় থাকে। তাহলে দেখা যায় উল্টোচিত্র। মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

যেমনটি হয়েছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর উপর ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতুর ক্ষেত্রে। গত ৫ বছরেও সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেতুর সুফল পাচ্ছে না দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ঠিকাদারের অবহেলার কারণে নির্মাণকাজে ধীরগতি।

জানা গেছে, এককালের প্রমত্তা ডাকাতিয়া নদীর উপর ২০১৭ সালের ১১ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পুর্ব ইউনিয়নের চররনবলিয়া গ্রাম ও চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ছোট সুন্দর গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বগার গুদাড়া এলাকা দিয়ে ২৭৭ মিটার দীর্ঘ ভাষাবীর এম এম ওয়াদুদ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যে দিয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই সংসদীয় আসনের এমপি ডা: দীপু মনি ও ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া যৌথ ভাবে সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

Model Hospital

৩৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার নবারণ টেড্রার্স লি. সেতুটির মূলকাজ নদীর উপরের কাজটি সম্পন্ন করে। পরে ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপের কাজের জন্য ২৮ কোটি ৯৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৫৪ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রিজভী কনস্ট্রাকশন ও ইউনুছ আল মামুন (জেবি) যৌথ ভাবে কাজ শুরু করে। নির্মাণকাজের মেয়াদ ডিসেম্বর’২০২১ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মেয়াদ বৃদ্ধি করে তা জুন’২০২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

সরেজমিন সেতুর নির্মাণকাজ এলাকায় গেলে দেখা যায়, সেতুর ফরিদগঞ্জ উপজেলা অংশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ৬ জন শ্রমিক সেতুর ডায়াফাক্টের পিয়ারের ক্যাপের কাজ করছে। অপর পাড়ের পিয়ারের ক্যাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী কামরুল হাসান।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইট প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, সেতুর দুই পাড়েই নির্মাণ কাজ চলছে। চাঁদপুর সদর অংশে ২৫জন এবং ফরিদগঞ্জ অংশে ৯জন শ্রমিক কাজ করছে। তবে কাজের উপর শ্রমিক বাড়ে ও কমে।

এদিকে বালিথুবা পুর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আকবর মিয়াজী, চররনবলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন (৩৮), খোরশেদ আলম (৬০), জুয়েল হোসেন টিটু (৩৫), আলাউদ্দিন (৩৪), মিজানুর রহমান (৬০), শফিকুর রহমান (৭০)সহ বেশ কয়েকজন জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি যে ভাবে কাজ করছে মনে হয় আগামী দু’ তিন বছরেও কাজ শেষ হবে না।

কাজের ধীরগতি ও শ্রমিক কম দিয়ে কাজ করানোর কারণে ডায়াফাক্টের পিয়ারের ক্যাপের রডে মরিচা ধরছে। ঠিকমত এখানে নির্মাণ সামগ্রীও আনা হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ও আর্থিক সমৃদ্ধি সুবিধার জন্য এই ব্রিজটি আমাদের উপহার দিয়েছেন। কিন্তু এর সুবিধা আমরা কবে ভোগ করতে পারবো কিনা তা জানিনা।

বালিথুবা পুর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ধীরলয়ে কাজ করছে। বিষয়টি এলজিইডি চাঁদপুর অফিসকে জানানো হয়েছে। কার্যত ব্যবস্থা গ্রহন করছেনা তারা।

এ ব্যাপারে এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস হোসেন বিশ্বাস জানিয়েছেন, ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতুর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ডিসেম্বর’২০২১ সালে মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে মেয়াদ বৃদ্ধি করে জুন’২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা ডিসেম্বর’২০২২ এর মধ্যে কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার আশা করছি। তবে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই আমরা সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারবো। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে নির্মাণ কাজে সামান্য ধীরগতি থাকলেও বর্তমানে গতি ফিরেছে।

প্রসঙ্গত, চাঁদপুর-হাইমচর আসনের এম পি ও শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনির পিতা ভাষা সৈনিক মরহুম এম.এ ওয়াদুদের নামানুসারে ব্রিজটির নামকরণ করা হয়।

খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
খেয়াঘাটে ‘রান ফর লাইফ’, সুস্থতার বার্তা নিয়ে ৩ কিলোমিটার দৌড়

মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর লাইফ’ শীর্ষক ৩ কিলোমিটার ফান রান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৬টায় উপজেলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র খেয়াঘাট এলাকায় এ আয়োজন করা হয়।

ভোরের নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ দৌড়ে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে শাহরাস্তি ওয়াকওয়ে। শরীরচর্চার পাশাপাশি আনন্দ ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

‘Vital Mahadi Run’ পেজের অ্যাডমিন মো. মেহেদী হাসান এবং ‘মানুষের কথা’ পেজের অ্যাডমিন মো. সোহেল আহমেদের যৌথ উদ্যোগে এ ফান রানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের রিপোর্টিং সময় ছিল ভোর সাড়ে ৫টা।

আয়োজকেরা জানান, শাহরাস্তি ওয়াকওয়ের সূচীপাড়া ব্রিজ-সংলগ্ন স্থান থেকে দৌড় শুরু হয়। সেখান থেকে রানাররা গন্দপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে যান। পরে ইউ-টার্ন নিয়ে একই পথে ফিরে এসে মোট ৩ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করেন।

Model Hospital

আয়োজনটিতে ফুড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করে ‘ইলশে বাড়ি’। প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ইলিশ সারা দেশে সরবরাহ করে থাকে।

অন্যদিকে, মেডেল স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তির মেহের উত্তর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. লোকমান হোসেন মুন্সী। তাঁর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কাস্টমাইজড মেডেলের ব্যবস্থা করা হয়। মেডেল পেয়ে রানারদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।

আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়মিত শরীরচর্চায় আগ্রহী করে তুলবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও সুস্থ সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘রান ফর লাইফ’-এর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

‘রান ফর লাইফ’-এর প্রত্যয়—সুস্থ শরীর, সুন্দর সমাজ।