শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইতিহাসের স্বাক্ষী শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া মঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২, ৮:৫৬ এম
ইতিহাসের স্বাক্ষী শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া মঠ
সত্যরাম মজুমদারের মঠ চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া গ্রামে অবস্থিত। যা আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বাক্ষী হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ইতিহাস
তিন শতাধিক বছরের পুরনো এই মঠ সাহাপুর রাজবাড়ির দেওয়ান সত্যরাম মজুমদার ১৭৯১ সালে নির্মাণ করেন। তবে এর প্রতিষ্ঠাতাকে নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। কারো কারো মতে এই মঠটির প্রতিষ্ঠাতা জমিদার শৈলনাথ মজুমদার, যিনি তার মায়ের সমাধির উপর স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে মঠটি নির্মাণ করেছিলেন।
১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এই মঠটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি মুক্তের শেষ তিনদিন পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী শেষ রক্ষায় এই মঠে ঢুকে পড়ে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যায়। এসময় তাদেরকে তিনদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ঘিরে রাখে এবং বিরামহীন ভাবে গোলাবারুদ বর্ষন করতে থাকে। এক পর্যায়ে হানাদার বাহিনীর খাদ্য ও গোলাবারুদ শেষ হয়ে আসায় টিকতে না পেরে তারা আহত অবস্থায় মঠ থেকে বের হয়ে পাশের নাওড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠদিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু এসময় চারিদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। এই যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর পক্ষে থাকা মিত্র বাহিনীর একজন ভারতীয় শিখ সৈনিক মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন এবং বহু মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। এই যুদ্ধে অংশগ্রহনকারি ১৩ পাকিস্তানী বাহিনীর সৈনিকের মরদেহ ২টি গর্তে একটিতে ৭টি এবং অপরটিতে ৬টি একত্র করে নাওড়া রেলওয়ে সেতুর পাশে মাটি চাঁপা দেয়া হয়েছে। যা বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা।
আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নাওড়া মঠের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই এলাকার কীর্তি সন্তান সাবেক সচিব ও সমাজ সেবক ডঃ এম এ সাত্তার এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই মঠটি সংস্কারের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ দায়িত্ব নেয়। সেই থেকে এই মঠের সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঐ বিভাগই পালন করে আসছে।
বর্তমান অবস্থা
চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় বর্তমানে নাওড়া মঠকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে।বর্তমানে এর আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন করে নতুন আঙ্গিকে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।
লেখক পরিচিতি : মোঃ রুহুল আমিন, সম্পাদক দূর্বার নিউজ ২৪ ডটকম

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।