সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে হিন্দু যুবকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০২২, ১২:৪৬ পিএম
ফরিদগঞ্জে হিন্দু যুবকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

এস এম ইকবাল : চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাঁধন চন্দ্র সরকার নামে এক হিন্দু যুবক পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
৫ জুলাই মঙ্গলবার চাঁদপুর নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট করে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন বাধঁন (বর্তমানে মোঃ আবদুর রহমান)। জন্ম সূত্রে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করা বাঁধন একই জেলার মতলব দক্ষিণ থানার বরুন চন্দন সরকারের ছেলে।

উল্লেখ্য পরিবার সহ বেশ কয়েক বছর যাবত ফরিদগঞ্জেই বসবাস করছেন। যে কারনে পড়াশোনা থেকে শুরু করে ফরিদগঞ্জেই তার বেড়ে উঠা।

মোঃ আবদুর রহমান এই প্রতিনিধিকে জানান, চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বরাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্ধু রাহাতের কাছে কালিমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি (পূর্ণরায় কোন আলেমের কাছে কালিমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে স্থানীয় আলেমদের কাছে কথা বললে তারা জানান নিজের পরিপূর্ণ ইচ্ছায় একবার কালিমা পড়লেই হবে) এবং সবশেষ গত ৫ জুলাই মঙ্গলবার চাঁদপুরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করি এবং আমি নিয়মিত নামাজ আদায় করছি। সে আরোও জানান, আমার বিভিন্ন সুরা, নামাজ সহ যাবতীয় বিষয়ে শিখতে আমার বন্ধুরা আমাকে সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করছে।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর এখন থেকে সে তার পরিবার থেকে আলাদা জীবন যাপন করছেন। মোঃ আবদুর রহমান সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। ২০২১ সালে ফরিদগঞ্জ এ আর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এই যুবক এখন পড়াশোনা করছে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণী প্রথম বর্ষে, সে চায় নিজের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে স্থায়ী ভাবে কোন একটি কর্মস্থলে নিজেকে যুক্ত করতে, তবে তার আগে শিক্ষা জীবনের চ্যালেঞ্জিং এই সময়টুকু কাটাতে দরকার স্থায়ী কোন ব্যবস্থা, যেটির জন্য আঃ রহমান সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।

Model Hospital

আঃ রহমানের বন্ধুরা জানান, অনেক আগে থেকেই আঃ রহমানের ইসলাম প্রতি বেশ আগ্রহ ছিলো, প্রায় সময় আমরা খেয়াল করতাম ও জুমার দিন হুজুরের দেওয়া খুতবা সে মাইকে একান্ত মনোযোগে শুনতো এবং তার নামাজসহ ইসলামের যাবতীয় বিষয়ের প্রতি ছিলো ওর বেশ আগ্রহ ও ভালোবাসা ছিলো।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।