সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মসজিদের ইমামের উপর হামলার ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২, ৪:০০ পিএম
মসজিদের ইমামের উপর হামলার ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুরে আলোচিত মসজিদের ইমামের উপর হামলার ঘটনায় আটক হবার এক দিনের মাথায় আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছে আসামিরা। অমানবিক এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার না পাওয়া এবং এই ঘটনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে জেলার আলেম সমাজ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সম্প্রতি চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদি ঈমানিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু ইউসুফের উপর এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত দুলাল মৃধা ও তার পরিবার ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তরা ইমামের উপর হামলার ঘটনাকে আড়াল করতে সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন বলে জানান এলাকার শান্তিপ্রিয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
সরে জমিনে গিয়ে জানা যায়, বিষ্ণুদি ঈমানিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু ইউসুফ দীর্ঘ ১৩ বছর যাবত এই মসজিদে দায়িত্বরত রয়েছেন। এর পূর্বে তিনি প্রায় ২০ বছর চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড গোরে গরিবা মসজিদের পেশ ইমাম ও মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চাঁদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বয়োবৃদ্ধ এই আলেমর উপর হামলার ঘটনায় মসজিদ কমিটি, এলাকাবাসী, মসজিদের মুসল্লি ও চাঁদপুরের আলেম সমাজ তীব্রভাবে বিচারের দাবি করছে।
ইমানিয়া জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মোঃ আবুল হাশেম চৌকিদার জানান, ২০২০ সালে মসজিদ পরিচালনা কমিটি পরিবর্তন করে নতুন কমিটি দেয়া হয়। এর পূর্বের কমিটিতে অভিযুক্ত দুলাল মৃধার ছোট ভাই রমজান আলী মৃধা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মসজিদে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠায় চাঁদপুর পৌরসভার তত্ত্বাবধানে তৎকালীন ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিল্লাল মাঝির উপস্থিতিতে মুসল্লিদেরকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে কমিটিতে আমাকে সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুলাল মৃধার ভাই রমজান আলী মৃধা মসজিদ কমিটির দায়িত্ব না পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্নভাবে মসজিদের বিষয়ে বিভিন্ন যায় ঝামেলা সৃষ্টি করছে। কিছুদিন আগে দুলাল মৃধা মসজিদের জায়গা পথ হিসেবে ব্যবহার করে জমি বিক্রি করেছে। তাতে মসজিদের কেউ কোনো আপত্তি করেনি। কিন্তু মসজিদের জায়গা নিজের পথ হিসেবে দাবী করে তিনি গেট নির্মাণ করেছেন। এতে মসজিদের মুসল্লিরা মসজিদের জায়গায় নির্মাণ করা গেইট খুলে দেয়। মূলত দুলাল মৃধার পরিবারের সাথে মসজিদ কমিটির জমি সংক্রান্ত বা অন্য কোন বিষয়ে বিরোধ নেই।
মসজিদ কমিটির জয়েন সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম খান বলেন, মজিদ কমিটিতে দুলাল মৃধার ভাইকে না রাখা, মসজিদের জায়গায় পথ ব্যবহার করে জোরপূর্বক গেট নির্মাণ করলে মুসল্লিরা গেট সরিয়ে ফেলা ও মসজিদের কোন বিষয় তাকে না জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে বয়োবৃদ্ধ একজন আলেম ইমামের উপর এরকম নেক্কার জন্য হামলার ঘটনা ঘটায়। এই ঘটনাকে আড়াল করতে দুলাল মৃধা মিথ্যা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন।
মসজিদের মুসল্লী বিল্লাল মৃধা ও বিপ্লব মিজি জানান, ইমামের উপর হামলা করায় আমাদের মসজিদের মুসল্লী ও এলাকাবাসী দোষীদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি জানাচ্ছে। আমরা বিচার দাবি করায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে দুলাল মৃধার পরিবারের লোকেরা বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা কওমি সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসেন জানান, মসজিদের ইমাম সাহেবের উপর নেককারজনক হামলার বিচার এতদিনেও হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আমরা জেনেছি হামলাকারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চাঁদপুরের প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানাবো, ভয় বৃদ্ধ একজন আলেমের উপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনুন। চাঁদপুরের আলেম সমাজের পক্ষ থেকে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিচার দাবি করছি।

চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ এম
চাঁদপুরে আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা তামজিদ মৃধা

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া নিষিদ্ধঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ওই নেতার নাম তামজিদ হাসান মৃধা (৩২)। তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তামজিদ মৃধা ওই ইউনিয়নের আশ্বিনপুর গ্রামের মৃত আবদুল আউয়াল বাচ্চু মৃধার ছেলে। তার দুই ভাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জরিত। এক ভাই তোফায়েল মৃধা উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আরেক ভাই আলম মৃধা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
তামজিদ মৃধার বিরুদ্ধে মতলব দক্ষিণ থানায় ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের আশ্বিনপুর মাদ্রাসার সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তামজিদ হাসান মৃধাকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং আটক তামজিদ মৃধার বড় ভাই তোফায়েল মৃধা, আরেক ভাই ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক আলম মৃধাসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তাঁরা পুলিশকে চাপ দিয়ে আটক ছাত্রলীগ সভাপতিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী জানান, আটক তামজিদ মৃধার কাছ থেকে মাদক উদ্ধার করা হলেও সবকিছু জেনে শুনে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে নেন বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসীর দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই বিএনপি নেতা সরকারি গাছ বিক্রি, সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে আবুল কালাম আজাদসহ তার সহযোগীদের দল থেকে বহিষ্কারের জোর দাবি জানান তারা।
​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মতলব দক্ষিণ থানা এসআই দেলোয়ার হোসেন জানায়, অভিযান চালানোর সময় তানজিদ মৃধাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এসে তাঁকে নিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিক তামজিদ মৃধা যে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আমরা তা শনাক্ত করতে পারেনি। পরে বিষয়টি জানা গেছে সে ছাত্রলীগ নেতা।
​অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামজিদ মৃধাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় আমি ছিলাম না। তার ভাই তোফায়েল মৃধা ও আলম মৃধা তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। আমি পরে গিয়ে জানতে পেরেছি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে।