বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিনদেশি গাছে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২, ১:০১ পিএম
ভিনদেশি গাছে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য

মনিরুল ইসলাম মনির : বহিরাগত প্রজাতি হিসেবে আকাশি, ম্যানজিয়াম, রাবার, ইউক্যালিপটাসসহ নানা ধরনের গাছ পরিচিত। এসব গাছ দিয়ে বনায়নে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতি বয়ে আনছে বলে গবেষক ও কৃষকদের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত বর্ধনশীল ও মুনাফা লাভের আশায় গত কয়েক যুগ ধরে বিদেশি প্রজাতির এসব গাছ দিয়ে বনায়নের হিড়িক শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল, সামাজিক বনায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে বিদেশি গাছ লাগানো হয়। এতে কৃষি, মৎস্য চাষাবাদে ক্ষতি ছাড়াও পশু-পাখির খাদ্য তৈরি না হওয়ায় পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির মূল্যবান কাঠ ও ফলের গাছ এবং ঔষধি বৃক্ষের চাষাবাদ উৎপাদনের ও সংরক্ষণের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত হয়ে আছে।

গবেষকদের মতে, বিদেশি গাছগুলো স্থানীয় প্রজাতির জায়গা দখল করে সেগুলোকে বিপন্ন করে তোলে। গাছপালা বা পশু-পাখির যে কোনো প্রজাতি ভিন্ন পরিবেশ থেকে এনে বিস্তার ঘটতে দিলে কালক্রমে তা হয়ে ওঠে আগ্রাসি প্রজাতি। বর্তমানে দেশীয় প্রজাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বহিরাগত প্রজাতি। প্রয়াত প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মাও এসব গাছের ক্ষতিকর বিষয়ে গ্রন্থাবলিতে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তার মতে, ‘ইউক্যালিপটাস, শিশু, মেহগনি, রেইনট্রি এই গাছগুলো অত্যাধিক পানি শোষণ করে জমি শুকিয়ে ফেলে। শিকড় গভীরে প্রোথিত না হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশে অন্য গাছপালা জন্মাতে দেয় না। আমাদের দেশে দরকার জলজ উদ্ভিদ। এখানে জলজ জায়গা বেশি। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্যকিছুও জন্মাতে পারে।

বন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, বহিরাগত প্রজাতির গাছ-গাছালি পশু-পাখির খাবার তৈরি করে না। ব্যাপক বিস্তারে অন্য গাছগুলোর সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। যে কারণে জীববৈচিত্র্যের জন্য বহিরাগত প্রজাতির গাছ খুবই ক্ষতিকর।

Model Hospital

মতলব উত্তর উপজেলার সালাউদ্দিন, ফয়েজ আহমেদ, ফারুক হোসেন’সহ কয়েক জন কৃষক জানান, আকাশমনি, ম্যানজিয়াম এসব গাছ-গাছালি কৃষিজমি বিনষ্ট করে। মাছের চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আরো বলেন, আকাশি গাছের ছায়ায় ধানের চারা থেকে শুরু করে কোনো ধরনের চাষাবাদ সম্ভব হয় না।

বহিরাগত গাছগুলো কৃষির জন্য ক্ষতিকর। আকাশি, ইউক্যালিপটাস গাছের ছায়ায় ধানগাছের পাতা মোড়ানো রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকে আক্রান্ত করে। এসব রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কীটনাশক অথবা বালাইনাশক ব্যবহারে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, আকাশি গাছের পাতা ঘন, এমনকি সূর্যের আলো মোটেও পড়ে না। এগুলো প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। গাছের পাতা পড়ে কৃষিখেত বিনষ্ট হয়। ক্ষতিকর এসব গাছ রোপণ থেকে সবাইকে নিরুৎসাহিত করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপজেলা ফরেস্টার বলেন, বর্তমানে এসব গাছ রোপণ এবং সরকারি নার্সারিগুলোতে আকাশমনি, ম্যানজিয়াম গাছের চারা উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হয়েছে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital