মা ইলিশ রক্ষা পেলে বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারা আরো দ্বিগুণ বেড়ে যাবে; শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : শিক্ষামন্ত্রী ও চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, মা ইলিশ রক্ষার জন্য সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। মা ইলিশ রক্ষা পেলে বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারা আরো দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। আপানারা শুনে অবাক হবেন একটি ইলিশ কত লক্ষ পোনা দেয় তা কল্পনা করা যায় না। মেঘনাই হচ্ছে মা ইলিশ পোনা ছাড়ার নিরাপদ আশ্রয়স্থল। অভিযান চলাকালিন সময় বর্তমান সরকার জেলেদের পূর্নবাসনের জন্য উপকরন বিতরন করে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক অভিযানে জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা হয়।’

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর), সকাল ১১ টায় চাঁদপুর নৌ পুলিশের আয়োজনে শহরের বড়স্টেশন মূলহেডে মা ইলিশ রক্ষা করি ইলিশ সমৃদ্ধ দেশ গড়ি” “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২২’ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও নৌ র্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন,‘মা ইলিশ রক্ষা পেলে এদেশ অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবে। ২২ দিন ইলিশ না ধরলে রাষ্ট্রের চেহারা পাল্টে যাবে। ইলিশ আন্তর্জাতিক পরিসরে জিআই সনদপ্রাপ্ত আমাদের অত্যন্ত সুস্বাদু মাছ। বিশ্বের সর্বোচ্চ ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। শুধু জাটকা সংরক্ষণ করা হলে আরও ৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণের সুযোগ আমরা দিতে পারব। এ জন্য জাটকা রক্ষায় আমাদের সবাইকে যত্নশীল হতে হবে।

মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম-বার পিপিএম।

তিনি বলেন, নৌ পুলিশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সৃষ্টি, এরপর থেকে নৌ পুলিশ নিয়মিত মামলা, অভিযানসহ যাবতীয় কাজ করে যাচ্ছেন। এই সময়ে মা ইলিশ সবচাইতে বেশি ডিম দেয়, ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ এটি খুব সহজ একটি বিষয়। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্ত মানতে হবে।
মা ইলিশ রক্ষার জন্য সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। মা ইলিশ রক্ষা পেলে দেশের উন্নয়নের ধারা আরো বাড়বে। মেঘনা নদীই হচ্ছে মা ইলিশের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

তিনি আরো বলেন, অভিযান চলাকালীন বর্তমান সরকার জেলেদের পুনর্বাসনের জন্য উপকরণ বিতরণ করে যাচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক অভিযানে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। জাটকা আহরণে বিরত থাকতে তাদের উদ্বুদ্ধ করা, সামাজিকভাবে তাদের বোঝানো এবং অসহায় ও দরিদ্র জেলেদের যাতে তারা ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ, জাটকা ধরলে সর্বনাশ’-এ মন্ত্রে আমরা সাধারণ মানুষকে বোঝানো ও উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি। সরকারের নানাবিধ উদ্যোগে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে গ্রাম-গঞ্জে এখন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের মানুষ ইলিশ খেতে পারছে। ইলিশ রপ্তানিও করা যাচ্ছে।

চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান এর সভাপতিতে এবং সাংবাদিক এম আর ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায়
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম-বার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর মৎস্য ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশ্রাফুল আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াছ, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারী, কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কান্ট্রি ফিশিং বোর্ডের সভাপতি শাহ্ আলম মল্লিক, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবীলীগ সভাপতি মালেক দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মানিক দেওয়ান প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, সাবেক সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী, আহসান উল্লাহ, লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী, অ্যাড. মজিবুর রহমান ভুইয়া, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী মাঝি, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভা শেষে বড় স্টেশন মোলহেড থেকে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মরতারাসহ নীলকমল পর্যন্ত একটি নৌ র্যালি বের হয়।








