বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধে হামলা; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২, ৪:০৯ পিএম
ফরিদগঞ্জে জমিসংক্রান্ত বিরোধে হামলা; থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
এস. এম ইকবাল : ভাইয়ের জুলুমের শিকার ভাই। পৈত্রিক সম্পত্তিতে দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত আব্দুল লতিফ। আদালতের রায় পাওয়ার পরও নিজ ভূমিতে ঘর তুলতে বাঁধা দেয় বড় ভাই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে আহত হয় বড় ভাই আব্দুল মতিনের মেয়ে তানজিনা (২৭)।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মরহুম আব্দুল জলিল এর ৪ সন্তান। আব্দুল মতিন, আব্দুল লতিফ, নুর মিয়া ও মো. শহীদ।
সার্ভেয়ার, পঞ্চায়েত এবং চার ভাইয়ের স্বাক্ষর যুক্ত বন্টকনামা সূত্রে দেখা যায়, আব্দুল লতিফ দুই শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আব্দুল মতিন তার ২য় ভাই আব্দুল লতিফকে তাদের প্রতিশ্রুতিকৃত স্থানে দিতে রাজি হচ্ছে না। অন্যদিকে বাকী দুই ভাই এটা নিয়ে বিরোধ করছে না। তারা আব্দুল লতিফকে পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উক্ত ভূমি দিতে রাজি কিন্তু তাদের সবার বড় ভাই রাজি হচ্ছে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পঞ্চায়েত হয়। পঞ্চায়েত আব্দুল লতিফের পক্ষে রায় দিলে আব্দুল মতিন তা না মেনে আদালতে মামলা করে। আব্দুল লতিফের ভাষ্য অনুযায়ী আদালতের রায়ও তার পক্ষে যায়। তারপরও আব্দুল মতিন তার ভাইকে সেই জায়গাটিতে ঘর তুলতে দেয় না। দীর্ঘ সময় ধৈর্য্য ধরার পর, অবশেষে আব্দুল লতিফ গত ৫ নভেম্বর তার ভূমিতে ঘর তোলার উদ্দেশ্যে গাছ কাটতে গেলে তার বড় ভাই আব্দুল মতিন তার স্ত্রী, মেয়ে বাঁধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়এতে আব্দুল মতিনের মেয়ে  তানজিনা (২৭) গুরুতর আহত হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগ পত্রে দুই পক্ষের লোকই আহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ বলেন, পৈত্রিক সূত্রে আমি আমার ভিটাতে সব ভাইয়ের মতো ১১ শতাংশ পাই কিন্তু আমার বড় ভাই মাপার আগেই আমার সম্পত্তির উপর ঘর তুলে ফেলে। পরে পঞ্চায়েতরা সিদ্ধান্ত দেয় ঘর না ভেঙ্গে। রাস্তার পাশে যে ডোবা আছে সেখান দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করবে। আমি কষ্ট পেলেও সবার কথা মেনে নিয়েছি। কিন্তু এখন সেখানে আমি ঘর করতে গেলে বড় ভাই বাধা দেয়।’
এ বিষয়ে তার অপর দুই ভাই নূর মিয়া এবং শহীদ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমাদের পূর্বের সিদ্ধান্ত ছিলো মেঝ ভাইয়ের যে দুই শতাংশ জায়গা কম আছে সেটা রাস্তার পাশে ডোবাতে দিবে কিন্তু বড় এখন সে কথা থেকে সরে গেছে। এটা নিয়েই জামেলা।
ঘটনার স্থানে গিয়ে আব্দুল মতিন, তার মেয়ে এবং স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে আব্দুল মতিনের ছেলে নুরুন্নবীর স্ত্রী ফারজানা বেগম বলেন, ‘উনারা চাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমি বিস্তারিত জানি না। জায়গা জমি নিয়ে মারামারি হয়েছে। এতে আমার শ্বাশুড়ি এবং ননদ আঘাত পেয়েছে।’

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে প্রবাসীর বসতঘর পুড়ে ছাই

ফরিদগঞ্জে রহস্যজনক আগুনে পুড়ে যাওয়া বসতঘরের ভগ্নাবশেষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে একটি নিরীহ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গভীর রাতে ঘটা এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা সূত্রপাত কোথায় থেকে হয়েছে, তা কেউ বলতে না পারায় পুরো এলাকায় গভীর রহস্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৭শে অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম শ্রীকালিয়া গ্রামের জবর আলি বেপারী বাড়ির প্রবাসী মো. মাসুদ আলমের বাড়িতে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটোয়ারী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর মাত্র কিছুক্ষণ পর, আনুমানিক রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে বসতঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁদের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, পরিধেয় বস্ত্রসহ সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটার মতো রান্নার চুল্লি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কেট বা অন্য কোনো দাহ্য পদার্থের কোনো সংযোগ বা উপস্থিতি ছিল না। ফলে এত বড় অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।