শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

গণকবরস্থানের জায়গা প্রদানসহ মানবকল্যাণে একজন সোহেল রুশদী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৪৪ এম
গণকবরস্থানের জায়গা প্রদানসহ মানবকল্যাণে একজন সোহেল রুশদী
নিজের জায়গা গণকবরস্থানকে প্রদান করেছেন। তাঁর উপর আবার অসহায় মানুষের জন্য। যাদের মাথাগোঁজার স্থান আছে কিন্তু নেই শেষ ঠিকানার জায়গাটুক। সেই শেষ ঠিকানা জায়গা করে দিয়েছেন একজন সাংবাদিক সোহেল রুশদী। তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন শহর উপকন্ঠে চাঁদপুর জেলার সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের বড় শাহতলী গ্রামের বাসিন্দা, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, ভূমিদাতা সাংবাদিক সোহেল রুশদী।
শুধু গণকবরের জমি দান করেন নি। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির দাফন ও কাফনসহ এর আনুসাংগিক সব ব্যবস্থা নিজ খরচে করবেন। যা সত্যিই এক বিরল অতি মানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। চাঁদপুরের দৈনিক চাঁদপুর খবরসহ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠ ছেপেছে সম্পাদকীয়ও। সাংবাদিক সোহেল রুশদী শুধু গণকবরস্থান নয়। ইতোপূর্বে তিনি ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভূমি দান করেছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী গ্রামের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার পাশাপাশি অবলীলায়  সমাজসেবা করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁরই অংশ হিসেবে মানবকল্যাণে ধর্মীয় এ কাজটি করে শাহতলীতো বটেই পুরো চাঁদপুরে এক প্রকার প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। তিনি গত ৩১ অক্টোবর চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্থানে নিজের জায়গায় যে কোন ব্যক্তির দাফন করার ব্যবস্থা করার ঘোষণাসহ আনুষ্ঠানিকভাবে গণকবরস্থানের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।
তিনি এখানে কবরস্থ ব্যক্তিদের তালিকা করে নামফলক করা, কবরস্থান সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে ব্যক্তিগতভাবে নিজে ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা নিয়ে পাইলিং করারও আশ্বাস দিয়েছেন। আশে-পাশে যাদের মৃত্যুর পর কবর দেয়ার নিজস্ব জায়গা নেই, তাদেরকেও এ গণকবরস্থানে দাফন, কাফনের খরচ বহন করাসহ যাবতীয় সকল কার্যাদি  সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। ইতোপূর্বে এস্থানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২৫ জন ব্যক্তিকে দাফন করা হয়েছে।
কবরস্থান সংলগ্ন স্টেশনের রেললাইনের এ পার্শ্বে এলাকার ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম ফারুক কারী ও তার বড় ভাই সাবেক মেম্বার মো: সফিক কারীও উক্ত স্থানে একটি ওয়াল করে দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে  বলতে পারছি তিনিসহ এলাকাবাসী গণকবরস্থানের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা আসলেই সময়োপযোগী এক বিশাল মহৎ কাজ।
এ মহৎ কাজের পাশাপাশি সাংবাদিক সোহেল রুশদী তার এলাকাসহ সকল স্থানের মানুষের কল্যাণে সবসময় এগিয়ে আসেন। তিনি নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার অসহায় মানুষদের চোখসহ বিভিন্ন চিকিৎসাও করিয়েছেন। যে কোন সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও সহযোগিতা করছেন উদারভাবে এবং উদার হস্তে। বহু গরীব পরিবারের মেয়েদের বিয়েতেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ওই বিয়েতেও তিনি নির্দিধায় অংশ নেন। এর পাশাপাশি তার দাদা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এ টি আহমেদ হোসেন রুশদী, তার পিতা ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এডঃ তাহের হোসেন রুশদী এবং তাঁর গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহু গরীব ছাত্র ছাত্রী বিনা -বেতনে লেখাপড়া এবং শিক্ষাথীদের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দিয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি শাহতলী কামিল মাদ্রাসার সাথে জড়িত। ধর্মীয় দিক দিয়ে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আথিক সহযোগিতাসহ তাঁতে অংশ নেন। এমন একজন সোহেল রুশদী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে থাকলে, সমাজের অবহেলিত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
দেশের যেসব স্থানে বেসরকারিভাবে এবং মসজিদ ও গণকবরস্থান তৈরিতে উদ্যোক্তারা সফল হয়েছেন তাদের কর্মকৌশল ও অভিজ্ঞতা জেনে নিয়ে নতুন উদ্যোক্তারা সোহেল রুশদীর মত তাদের কাজ শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকারি খাস জমি প্রদান, সরকারি অনুদান কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পৃষ্ঠপোষকতা কোথাও কোথাও উদ্যোক্তাদের জন্য হতে পারে প্রণোদনার মতো বিষয়। আশা করি ক্রমবর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার এদেশে ঘনবসতিপূর্ণ জনপদে শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মসজিদ গণকবরস্থানের বিষয়টি সচেতন ব্যক্তি মাত্রই ভাববেন এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা থেকে  নিশ্চিত করবেন। মানবকল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে আরো অনেক পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
পরিশেষে বলতে চাই এক সোহেল রুশদীর কর্মে শত সোহেল রুশদী তৈরী হোক সমাজে। তা হলে মানবতা বেঁচে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
শেখ মহিউদ্দিন রাসেল
লেখক পরিচিতি:
লেখক, সমাজকর্মী ও সংগঠক।

উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
উৎপাদনই বদলাবে বাংলাদেশ: দক্ষতা বৃদ্ধিতে চাঁদপুরে ব্যবসায়ী সম্মেলন

চাঁদপুরে ‘টাকা মাত্র ১০ হাজার, খুলবে ব্যবসার দ্বার’ এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যবসায়ী সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত করতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, সৎ-আদর্শ ব্যবসায়ী গড়ে তোলা এবং উৎপাদনমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যানঘাট এলাকার ইউরেশিয়া কনভেনশন হলে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (আইবিডাব্লিউএফ) চাঁদপুর জেলা শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২০৫০ সালের বিশ্ব শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদনে যেতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় দেশ। ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজার থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের উৎপাদনমুখী হতে হবে।’

Model Hospital

চীনসহ বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উৎপাদনই এসব দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি।

তিনি আরও বলেন, সম্পদ অর্জন করতে হবে, তবে তা অবশ্যই সৎ পথে। সংগঠনের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো বাধা নেই, তবে সততা থাকতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, সততা, সাহস, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে চাঁদপুরেও বড় শিল্পোদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোক্তারা চাঁদপুরে শিল্পায়নের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। মাত্র তিনটি মেশিন দিয়ে উৎপাদন শুরু করে তিন বছরের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে অর্ধশতাধিক মেশিনে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করতে দেখেছেন বলেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সাফল্য নতুন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আইবিডাব্লিউএফের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী, কুমিল্লা আঞ্চলিক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম এবং জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ উসমানী।

জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহসভাপতি মোজাম্মেল হক পরান ও বাদশা ফয়সাল।

ব্যবসায়ীদের মধ্যে বক্তব্য দেন মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিক, শাখাওয়াত হোসেন, আবুবকর সিদ্দিক, হাফেজ তাজবীর ও সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ।

বক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সততা ও আদর্শের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।