শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরের মেঘনা তীরবর্তী ৫ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১, ৬:৩৭ পিএম
মতলব উত্তরের মেঘনা তীরবর্তী ৫ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের আওতাধীন মেঘনা নদীর তীরবর্তী ৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান একেএম শরীফ উল্লাহ সরকার ও ইউপি সদস্যরা। নির্বাচনের দিন এসব কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দাবি জানিয়েছেন তারা।

আজ ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সোমবার মতলব উত্তর থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ দাবি জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

তারা অভিযোগ করছেন ষাটনল ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী নদীর পার্শ্বে অবস্থিত ও মুন্সীগঞ্জের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সতন্ত্র প্রার্থী সদ্য আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত বড় ষাটনল গ্রামের আনারস প্রতীকের প্রার্থী ফেরদাউস আলম মুন্সীগঞ্জের বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে নদীর পার্শ্বে অবস্থিত এসব কেন্দ্র দখল করবেন বলে তিনি হুমকি প্রদান করছে। মুনসীগঞ্জে তার মামার বাড়ি হওয়ায় মুন্সীগঞ্জ থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে কেন্দ্র দখলের পায়তারা করছেন বলে তারা লিখিত আবেদনে অভিযোগ করেন।

ষাটনলের নদী তীরবর্তী এই ৫টি কেন্দ্রের আওতাধীন ভোটাররা আতঙ্কিত ও সংঙ্কিত। সাধারণ ভোটাররা এই কেন্দ্রে নির্বাচনের দিন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পূর্ন করার লক্ষ্যে তারা ৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনের দিন ১ জন করেনির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত সংখ্যাক ফোর্স নিয়োগ দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

Model Hospital

নদী তীরবর্তী এসব ৫টি কেন্দ্র নির্বাচনের দিন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পূর্ন করার লক্ষ্যে ভোটারা যাতে নির্বঘ্নে যার যার পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেধরনের ব্যবস্থা গ্রগণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ষাটনল ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি একেএম শরীফ উল্লাহ সরকার।

ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রগুলো হলো- ষাটনল ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী নদীর পার্শ্বে অবস্থিত ১নং ওয়ার্ডের ১১নং ষাটনল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২নং ওয়ার্ডের ১১নং ষাটনল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং ওয়ার্ড পূর্ব ষাটনল কমিউনিটি ক্লিনিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং ওয়ার্ড ১৯নং উত্তর ষাটনল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৫নং ওয়ার্ড সটাকী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল বলেন, শুধু ষাটনল নয় মতলব উত্তর উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পুলিশ প্রশাসন সবকিছু করবে। নির্বাচনে কেউ সহিংসতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’