শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের শহীদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২, ১:৫৩ পিএম
শাহরাস্তিতে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের শহীদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ 
মো.  মাসুদ রানা : শাহরাস্তিতে বিজয়ের ৫১ বছরে শহীদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নবঘটিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (১৬-ডিসেম্বর) শাহরাস্তি উপজেলা কমপ্লেক্স এ শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিসৌধে নেতৃবৃন্দ এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিবসের প্রথম প্রহরে নবঘটিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ারের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ উপজেলা কমপ্লেক্স সমবেত হন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান মিন্টু দলীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে  স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানীদের সম্মানের স্থাপিত স্মৃতিসৌধে দাঁড়িয়ে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জাতির সূর্যসন্তানের ঐতিহাসিক অবদানে কিঞ্চিৎ ঋণ শোধের অভিপ্রায়ে আমরা সমবেত হয়েছি। তাদের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার এ অনুপ্রেরণা শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগকে আগামী আন্দোলন-সংগ্রামে রসদ যোগাবে।ওই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী দিনে শাহরাস্তি হাজীগঞ্জের আসনটি উপহার দিব।
এ সময় তিনি শাহরাস্তি উপজেলা আলীগের সভাপতি হিসেবে অধিষ্ঠিত করায় কৃতজ্ঞচিতে  দলীয় কর্মী সমর্থকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
এদিকে অনুরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সাধারণ সম্পাদক জেড এম আনোয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংসদ মেজর  অব. রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপির আদর্শ ও রাজনৈতিক  রোড ম্যাপ বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতার প্রত্যাশা করে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি ।পরে নেতৃবৃন্দ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
এরপরেই শাহরাস্তি পৌরসভা আলীগের সভাপতি আহসান মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব আলম চৌধুরী, দলীয় নেতৃবৃন্দদের কে নিয়ে শহীদের প্রতি অনুরূপ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ওই সময় তিনি আহসান মঞ্জুরুল  ইসলাম জুয়েল স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পৌরসভা আলীগের যে দায়িত্বভার তিনি গ্রহণ করেছেন তা সফলভাবে  বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কর্মী-সমর্থকদের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
একই প্রত্যাশার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন পৌর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম চৌধুরী।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’