শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষার্থীদের শিখন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে; শিক্ষামন্ত্ৰী ডাঃ দীপু মনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ১:২৯ পিএম
শিক্ষার্থীদের শিখন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে; শিক্ষামন্ত্ৰী ডাঃ দীপু মনি

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি বলেছেন ‘আমার মা ও খালা শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় ছিলেন। তাই প্রজন্মের সন্তান হিসেবে আজ আমি নিজেও গর্ববোধ করছি। আর যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আজ শত বছর উদযাপন হচ্ছে এক সময় আমার খালা তার প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এমন একটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নিতে পেরে দারুণভাবে উচ্ছ্বসিত আমি।’

শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার শত বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শিখন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিখবে, অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিখন হবে। এছাড়া মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। কারণ আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষার ভয়-ভীতি চাই না। আমরা চাই আনন্দময় শিক্ষা পদ্ধতি হবে এবং আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানমনষ্ক হবে। তারা শুধু প্রযুক্তিবান্ধব নয়, প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনে দক্ষ হবে এবং মানবিক-সৃজনশীল মানুষ হবে। যেন তারা দেশের সুনাগরিক এবং বিশ্ব নাগরিক হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এখন শিক্ষার একটা বড় বিষয় হলো শিখতে শেখা। আমরা মনে করি যেকোনো সময় যেকোনো বয়সে মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নিতে চাইলে তার সেই সুযোগ থাকা উচিত। দেশব্যাপী সেই সুযোগ আমরা তৈরি করে দিতে চাই। সেজন্যই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

Model Hospital

মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আমরা যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চাই, তার সবই সম্ভব আমাদের শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ও পারে সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে। কারণ বিগত ১০০ বছরে এ প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া শেষ করে দেশ-বিদেশে অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শত বছর পূর্তির এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন শতবর্ষী নারী বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সকিনা খাতুন। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবীণ ও নবীন মিলিয়ে নানা বয়সী কয়েক হাজার শিক্ষার্থী আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন।

উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রূপালী চম্পকের উপস্থাপনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সদস্যসচিব মনিরা আক্তার। অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও দেশে এবং বর্তমান মিলিয়ে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী এই শত বছর উদযাপনে যোগ দেন। শুধু তাই নয়, চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন বেশ কয়েকজন প্রধান ও সহকারী শিক্ষকও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা শহরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন। পরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা ও বেলুন এবং পায়রা উড়িয়ে আয়োজনের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নেচে-গেয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

এসময় চাঁদপুর পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাস, পুরান বাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা সকিনা খাতুন ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ, সাবেক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’