শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইহুদি খ্রিস্টানরা কোরআনকে রিচার্জ করে অনেক কিছুই আবিষ্কার করেন; রেদওয়ান খান বোরহান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২:৪২ পিএম
ইহুদি খ্রিস্টানরা কোরআনকে রিচার্জ করে অনেক কিছুই আবিষ্কার করেন; রেদওয়ান খান বোরহান
গাজী মোঃ মহসিন : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮নং বাগাদী ইউনিয়নের নানুপুরের ঘাসিপুর জামেয়া হাফেজিয়া কোরআনিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে মাদ্রাসা মাঠে বাৎসরিক ইছালে ছাওয়াব ও দোয়ার মাহফিল রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাদ আছর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবি লীগের সভাপতি এবং চাঁদপুর -৩ (সদর-হাইমচর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনায়ন প্রত্যাশী, সিটি নিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ রেদওয়ান খাঁন বোরহান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, কোরআন এমন একটা কিতাব যা আজকে ইহুদি খ্রিস্টানরা এই কোরআনকে রিচার্জ করে অনেক কিছু আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। রাসুল (সাঃ) এর পূর্ব পুরুষ ও বর্তমানেও সমস্যার সমাধান কি সেটাও কোরআন দিয়েছে। আর সকল কিছুর মূল্যায়ন হয়েছিল একমাত্র আল্লাহ রাসূলের কারনে।
এখানে আমরা অনেকেই লেখা পড়া করে শিক্ষিত হচ্ছি কিন্তু সত্যিকারের সু শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারি নাই। আমাদের সমাজে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হলেও বাবা মাকে পরিচর্যার জায়গা হয়না, হয় বৃদ্ধাশ্রমে। অথচ একজন রাজমিস্ত্রী তার বাবা মাকে না খাইয়ে নিজে খান না। এ শিক্ষা, শিক্ষা না, যে শিক্ষা মানব কল্যাণে কাজে আসে না। আমরা উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির জন্য নিজেদের জীবনকে কুরআন ও হাদিসের আলোকে পরিচালনা করতে হবে। এর মধ্যেই আমাদের প্রত্যেকের জন্য কল্যাণ নিহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি একজন আওয়ামী লীগ এর কর্মী হিসেবে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করছি। আগামীতেও এর দ্বারা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমার জন্য আপনারা সকলে দোয়া করবেন।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মহিববুল্লাহ পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান করেন মান্দারী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট তাফসিরকারক আলহাজ্ব হযরত মাওলানা নেছার আহমাদ।
মাওলানা আবুবকর পাটওয়ারীর পরিচালনায় আরো বয়ান পেশ করেন ঢাকার শ্যামপুর মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মুফাসসিরে কুরআন হাফেজ মাওলানা মুফতি রেদওয়ান উল্যাহ পাটওয়ারী, ফরিদগঞ্জের গাজীপুর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আরবী প্রভাষক আব্দুল মমিন, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর দ্বিনীয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ উল্যাহ, ঘাসিপুর বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা তাজল ইসলামসহ বহু ওলামায়ে কেরামগণ কোরআন ও হাদিসের আলোকে তাশরিফ আনেন।
ঘাসিপুরের হুজুর মরহুম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা ইয়াকুব আলী (রহঃ) এর ২৬ তম ও আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শহীদউল্যাহ পাটওয়ারী (রহঃ) এর ৯ম বাৎসরিক ইছালে ছাওয়াব ও দোয়ার মাহফিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ঘাসিপুর জামেয়া হাফেজিয়া কোরআনিয়া মাদ্রাসার সভাপতি আমেরিকা প্রবাসী মোঃ রিয়াজ সরকার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’