শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ড্রাম্প ট্রাকের অত্যাচারে কৃষ্ণপুর মাঠের জমির উর্বর মাটি উজাড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:৫৯ পিএম
শাহরাস্তিতে ড্রাম্প ট্রাকের অত্যাচারে কৃষ্ণপুর মাঠের জমির উর্বর মাটি উজাড়

প্রিয় চাঁদপুর রিপোর্ট : শাহরাস্তিতে হাইড্রোলিক ড্রাম্প ট্রাকের অত্যাচারে পৌর শহরের ১১ নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুরের ইরি ধানের জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া র অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার ১ জানুয়ারি বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যায়, ওই এলাকার কিছু মাটি ব্যবসায়ী ঠাকুর বাজার উয়ারুক ভায়া সাহেব বাজার রাস্তা পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণপুর মাঠে ফসলি জমির মাটি হাইড্রোলিক ড্রাম্প ট্রাকে করে অন্যত্র মাটি নিয়ে যাচ্ছে।

এতে করে জমির উর্বর মাটি ও সরকারি রাস্তায় হাইড্রোলিক ড্রাম ট্রাকের ওভারলোডের ফলে রাস্তার সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পার্শ্ববর্তী জমির মালিক স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাস্তায় চলাচলকারী অটো সিএনজি সাইকেল আরোহী বিদ্যালয় গামী স্কুল ব্যানের চালকরা চরম উৎকণ্টার মধ্যে রয়েছে।

এরমধ্যেই অটোচালক জসীমউদ্দীন জানান, মাটি বোঝাই ট্রাক গুলো বেপরোয়া গতিতে যাতায়াত করছে। তারা মাটির টিব বাড়ানোর জন্য ছোট রাস্তায় দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে থাকে। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

Model Hospital

অন্যদিকে কৃষ্ণপুর মাঠের জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, কিছু ভূমির মালিক কে ওই মাটির দালাল চক্র অতিরিক্ত টাকার লোভ দেখিয়ে প্রথমে মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী জমিনকে উঁচু-নিচু করে ঝুঁকিতে পেলছে। পরে বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী জমির ওই মালিক সাথের জমিটির সঙ্গে সমান্তরাল করতে গিয়ে সেও মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে দালাল চক্র মাঠের পর মাঠের উর্বর মাটি নিয়ে যাচ্ছে অন্যত্র ভরাট কাজে। এর বিনিময় তারা প্রতিটি মাটির টিবে হাতিয়ে নিচ্ছে আড়াই হাজার টাকা থেকে তিন হাজার টাকা।

এই বিষয়গুলি ভুক্তভোগী মালিকরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন। তারপরও ওই মাটির দালাল চক্র ২০ থেকে ২৫ টি হাইড্রোলিক ট্রাম ট্রাক দিয়ে কৃষ্ণপুর মাঠে মাটি নিয়ে যাচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা আরো বলছেন, বর্তমানে বিদেশে দেশে খাদ্যর উচ্চ মূল্যে ও সংকটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে প্রতি ইঞ্চি মাটি কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদনের কথা বলছেন। সেখানে ওই মাটির দালাল চক্র ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগের তোয়াক্কা না করে মাটি কেটে দিচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দালাল চক্রের ক্ষমতার উৎস কোথায়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’