শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১:২৬ পিএম
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে চাঁদপুর জেলা আওয়ামীলীগের আলোচনা সভা
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
১০ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া ও তবারক বিতরণ করা হয়।

বিকাল ৪ টায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপ‌তিত্ব ক‌রেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ।
তি‌নি বক্ত‌ব্যে ব‌লেন, আমরা ১৯৭১ সা‌লের ১৬ ই ডি‌সেম্বর চুড়ান্ত বিজয় লাভ ক‌রি, ‌কিন্তু ‌সে‌দিন বঙ্গবন্ধু পা‌কিস্থান কারাগা‌রে বন্দি। পা‌কিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে সে‌দিন মৃত্যুদণ্ডে দ‌ন্ডিত ক‌রে কারাগা‌রে আট‌কে রাখে। তি‌নি কারগার থে‌কে ব‌লে‌ছি‌লেন আমার লাশটা যেন বাংলা‌দে‌শে পাঠা‌নো হয়। কিন্তু বি‌শ্বের বি‌ভিন্ন রা‌ষ্ট্রের চা‌পে মৃতুদন্ড রদ করা হয়ে‌ছিল। বঙ্গবন্ধু সে‌দিন দে‌শে ফি‌রে না আস‌লে ই‌তিহাস হয়‌তো অনন্যভা‌বে লেখা হত। ১০ জানুয়া‌রি বঙ্গবন্ধু বাংলা‌দে‌শে পা রে‌খে ব‌লে‌ছি‌লেন বাঙ্গা‌লি জাতির যে ভালবাসা আ‌মি পে‌য়ে‌ছি তা নি‌জের রক্ত দি‌য়ে হ‌লেও শোধ কর‌বো।

তিনি আরো বলেন, পৃ‌থিবীর অ‌নেক দেশ উন্নয়শীল হ‌য়ে‌ছে কিন্তু বাংলা‌দে‌শের ম‌তো এত তাড়‌তা‌ড়ি এগু‌তে পা‌রে‌নি। আর আমা‌দের এ সমৃ‌দ্ধি ও‌ উন্ন‌তি সম্ভব হ‌য়ে‌ছে জন‌নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। আমরা সবাই আন্ত‌রিক তাই আন্ত‌রিকতা নি‌য়েই এক‌ত্রিত হ‌য়ে দ‌লের জন্য কাজ কর‌বো।

Model Hospital

জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড জহিরুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ইঞ্জি. আব্দুর রব ভূঁইয়া,  আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. রুহুল আমিন সরকার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নূরুল ইসলাম মিয়াজী, বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ম‌নির আহ‌মেদ, দপ্তর সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, তথ্য ও গ‌বেষণা সম্পাদক বিনয় ভূষণ মজুমদার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নূরুল ইসলাম মিয়াজী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন মন্টু দেওয়ান, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড, দেবাশিস কর মধু, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু ভূইয়া, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী জান্নাতুল ইসলাম মাওয়া, রেনু বেগম, চাঁদপুর জেলা ছাএলীগের সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাইতুল আমিন জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ আব্দুস সালাম।

ক্যাপশন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আলোচনা সভায় সভাপ‌তির বক্তব্য রাখছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপ‌তি আলহাজ্ব নাছির উদ্দিন আহমেদ। ছবি: দৈনিক চাঁদপুর খবর।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’