শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৩, ২:৫৪ পিএম
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২৩ সালের নির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১১ জানুয়ারি বুধবার সকাল ১১টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার শুরুতে পুলিশ সুপার নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিনন্দন জানান। এরপর পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় এসপি মিলন মাহমুদ নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের সাফল্য কামনা করে বলেন, আমি আশা করি বিগতদিনের ন্যায় আগামী দিনেও নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ আরো বেশি কাজ করার সুযোগ পাবে। পুলিশ সুপার বলেন, আমরা যদি সবাই সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে কথা বলি তাহলেই সমাজে সঙ্গতি ফিরে আসবে। সকলেরই উচিত স্ব-স্ব পেশার প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। আমি আশা করি আপনারা যারা মূল ধারার গণমাধ্যমে আছেন তারা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করবেন। আমাদের দায়িত্ব পালনে যদি কোনো ভুল-ত্রুটি থাকে, আপনারা আমাকে তা ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

Model Hospital

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে পুলিশ তার কাজের মাধ্যমে পজেটিভলি এগিয়ে যাচ্ছে। অন্য যে কোনো সংস্থা থেকে পুলিশের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ যে কোনো সেবা পাওয়ার জন্যে ৯৯৯ কল করলেই আমরা সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এবারের পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই তার চিত্র ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠে থাকে পুলিশ আর সাংবাদিক। এ কারণেই পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্ক নিবিড় হয়। তাই আমি আশা করবো এই জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে আগামীদিনে আমরা সকলে মিলে একযোগে কাজ করবো।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আল-ইমরান শোভন, সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিম বাদশা, সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন শান্ত, কোষাধ্যক্ষ তালহা জুবায়ের, নির্বাহী সদস্য ফারুক আহমেদ ও রিয়াদ ফেরদৌস।

উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, ডিআইও-১ মোঃ মনিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য শহীদ পাটোয়ারী, লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ লতিফ, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক একে আজাদ, প্রকাশনা ও লাইব্রেরী সম্পাদক হাসান মাহমুদ, ক্রীড়া সম্পাদক এমআর ইসলাম বাবু, আপ্যায়ন ও বিনোদন সম্পাদক আশরাফুল আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মুনাওয়ার কাকন, আব্দুস সালাম আজাদ জুয়েল, মিজানুর রহমান লিটন প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’