চাঁদপুরের কৃতি সন্তান ডা. দুলালের নেতৃত্বে দেশে মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৩, ৫:৩৬ পিএম
মাসুদ হোসেন : দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নানা জটিলতা কাটিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো মৃত ব্যক্তির কিডনি অন্য ব্যক্তির দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিডনি দানকারী সারা ইসলাম (২০) একজন ঢাকার বাসিন্দা।
বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) ভোররাত ৪টা পর্যন্ত দুটি কিডনির একটি প্রতিস্থাপন করা হয়।
মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দিয়েছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের প্রধান (প্রক্টর) অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল।
তিনি সাহাতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও ঢাকার বাসাবো কদমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম আব্দুল ওয়াদুদ কাজীর পুত্র শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দমকের গাঁও গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন কাজী বাড়ির বাসিন্দা।
এদিকে মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সারা ইসলামের দেহ থেকে দুটি কিডনির একটি আমাদের এখানে এবং অন্যটি কিডনি ফাউন্ডেশনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা শামীমা আক্তার (৩৪) ও হাসিনা আক্তার নামের দুজন ব্যক্তির দেহে এগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়।’
মৃত ব্যক্তির থেকে অঙ্গ নিয়ে প্রতিস্থাপন এত সহজ ছিল না। পরিবার থেকেই নানা বাধা থাকে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ইসলামে প্রাণ বাঁচানোর গুরুত্ব দেওয়া হলেও অনেকে ভুল বোঝেন, দান করতে চান না। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’
শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কিডনি দাতা সারা ইসলাম মাত্র ১০ মাস বয়সে দুরারোগ্য টিউবেরাস স্ক্লেরোসিস রোগে আক্রান্ত হন। তিনি এ রোগ নিয়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে লড়াই করেন। তবে এ কাজে সবচেয়ে বড় অবদান সারার পরিবারের, বিশেষ করে মা। তিনি সম্মতি না দিলে এটি সম্ভব হতো না। তিনি আরও বলেন, ‘এটি প্রাথমিকভাবে শুরু হলো, সামনে অত্যাধুনিক করে আরও হবে এটা আশা করছি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর প্রক্টর অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বলেন, মৃত সারা ইসলামকে ৪ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আমাদের দেশে এই প্রথম আমন ট্রান্সপ্লান্ট করা হলো। কিডনি প্রতিস্থাপন করা ২ জন রোগীই ভালো আছেন।’
বাংলাদেশে ১৯৮২ সালে জীবিত দাতার কাছ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়। তবে ব্রেন ডেড রোগীর কিডনি নেওয়ার বিষয়ে আইনি সীমাবদ্ধতা ছিল। ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের সঙ্গে ছিলেন অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবাশীষ বণিক ও অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক।








