শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ স্কুল কলেজে উন্নতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:৩৫ পিএম
চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ স্কুল কলেজে উন্নতি
সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর পৌরসভার পরিচালনাধীন পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয় কলেজে উন্নীত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা এ সিদ্ধান্ত নেয়।
জানা গেছে, এ প্রতিষ্ঠানটি কলেজে রূপান্তরিত হওয়ার সকল চাহিদা পূরণ করায় শিক্ষা বোর্ড এটিকে কলেজে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তথা একাদশ শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি পায়। আর এর জন্যে চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছিল। তাঁর আগ্রহ এবং প্রচেষ্টায় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই সাফল্য অর্জিত হয়।
চাঁদপুর শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা কলেজের খুবই প্রয়োজন ছিল। যা শহীদ জাবেদ স্কুলটি কলেজে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে পূরণ হবে। এমন সাফল্যের জন্যে চাঁদপুর পৌরবাসীর পক্ষ থেকে মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা হয়। ৬৪ শাতাংশ এই জায়গা নিয়ে এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। ছাত্র- ছাত্রীর সংখ্যা ৭৫০ জন।
২৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার মাধ্যমে চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। পাশের হার শতকরা ৯৯ ভাগ। চাঁদপুর পৌরসভা পরিচালিত পূর্ণাঙ্গ আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন ভাবে পথচল যুক্ত হলো এ বিদ্যালয়টি, যেটির এখন পরিবর্তিত নাম পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ। ১ম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত।
বর্তমানে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব।
উল্লেখ্য, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জাবেদের নামে নামকরণ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’