শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ট্রাস্কফোর্স কমিটি ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:০৪ পিএম
শাহরাস্তিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ট্রাস্কফোর্স কমিটি ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে উপজেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ট্রাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০-নভেম্বর) দিনব্যাপী শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়  পরিষদ মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সূত্র জানায়, ওইদিন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরীন আক্তারের সভাপ্রদানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এটির শুভ উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তাঁর বক্তব্য, সরকারের মাদক বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি এবং মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত  পূর্বের এবং চলিত  বর্তমান আইন বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আইনটি কার্যকরে প্রশিক্ষণার্থীদের যথেষ্ট ভূমিকা এবং সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পরে এ বিষয়ে রিসোর্স পারসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ডাঃ নাসির উদ্দিন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মাকসুদুর রহমান, শাহরাস্তি মডেল থানা ওসি তদন্ত মোঃ মোরশেদুল আলম ভূঁইয়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
এছাড়া উক্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান চৌধুরী শেফালী । অন্যান্যের মধ্যে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জোবায়েদুল কবির বাহাদুর, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ, আইসিটি কর্মকর্তা (প্রোগ্রাম অফিসার)  মোঃ শাহজাহান,মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ফায়েদুল্লা মিয়া, আনসার ভিডিপি অফিসার, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স স্টেশন মাস্টার, উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কার্যালয়ের সিএ মোঃ শাহাবুদ্দিন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী আমন্ত্রিতরা  উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’