শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে একই এলাকায় ৮টি চুরির ঘটনা!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৫:০৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে একই এলাকায় ৮টি চুরির ঘটনা!

এস এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে চুরির ঘটনা। ২ থেকে ৩ মাসের ব্যবধানে একই এলাকা থেকে ৯ অটো রিক্সা, একটি মোটরসাইকেল ও দোকানের মালামাল চুরি হয়। রাতে অটো রিক্সা চার্জে দিয়ে ঘুমিয়েছিনে অটো রিক্সার মালিক। সকালে উঠে দেখেন ঘরের তালা ভাঙ্গা। ঘরে নেই দুইটি অটো রিক্সা। হঠাৎ এরকম চুরি ঘটনায় হতাশ এলাকাবাসী।

জানা যায়, ২৭ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার রাতে উপজেলা গোবিন্দপুর (দক্ষিন) ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর গাজী বাড়ি থেকে ইব্রাহীম গাজীর ২ টি অটো রিক্সা চুরি করে নিয়ে যায়।

একই এলাকায় গাজী মসজিদের পাশে ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে শাহিন আলম কালুর আল আমিন স্টোরের তালা ভেঙ্গে দোকানে থাকা একটি মোটর সাইকেল ও দামী দামী সিগারেটগুলো নিয়ে যায় এবং পাশের সেলিম স্টোরের তালা ভেঙ্গে কিছু বাটন ফোন ও মোবাইল কার্ড নিয়ে যায়। একই এলাকায় দেঢ় মাস পূর্বে বেপারী বাড়ির ফজলুর রহমান বেপারীর ঘরের তালা ভেঙ্গে দু’টো অটো রিক্সা চোর নিয়ে যায়।

সদ্য গতকাল রাতে চুরি হওয়া অটো রিক্সার মালিক ইব্রাহিম জানান, গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারী বিকেলে একটি অটো রিক্সা ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে চার্জে দিয়েছি এবং অপরটি গত দু’মাস পূর্বে একই দামে ক্রয় করেছি। সকালে উঠে দেখি ঘরে চার্জ দেওয়া অবস্থায় থাকা ২টি অটো রিক্সা নেই। আমি লোন ও ধারদেনা করে সান ওয়েল কম্পানীর তেলের ডিসটিভিউটর নিয়েছি। এই অটো রিক্সা ক্রয় করেছি ডিলারের মালামাল দোকানে পৌছে দেওয়ার জন্য। আমি এখন কি করে মালামাল দোকানে দোকানে পৌচে দিব।

Model Hospital

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুর রহমান মেম্বার জানান, দুই তিন মাসের মধ্যে আমার এলাকা থেকে ৯টি অটো রিক্সা চুরি হয়েছে। কার কার অটো রিক্সা চুরি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জহিরের ১টি, ইসমাইলের ১টি, সুফিয়ানের ১ টি, হেদায়েতের ১টি, আরো এইট আছে নাম জানা নেই, গত কিছুদিন পূর্বে ফিরোজর ২ টি ও সর্বশেষ গত রাতে ইব্রাহিমের ঘরের তালা ভেঙ্গে ২ অটো রিক্সা নিয়ে যায় চোরেরদল।

তিনি আারো বলেন, এছাড়া মোটর সাইকেলসহ মোবাইল দোকানেও চুরি হয়েছে। ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় একাবাসী উদ্বিগ্ন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো প্রদেক্ষেপ নিচ্ছেন না। তাদের কঠোর নজদারি পারে চুরি রোধ করতে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’