শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে কাজীর বিরুদ্ধে বিয়ের কাবিন নামা জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৫:১৬ পিএম
চাঁদপুরে কাজীর বিরুদ্ধে বিয়ের কাবিন নামা জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের

এইচ.এম নিজাম : ভুয়া কাবিননামা তৈরি, বাল্য বিয়র এবং কাবিন নামার উসিল পাল্টে দেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে হাইমচর উপজেলার নিকাহ রেজিস্টার কাজী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে।

এবার তার বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্টার বরাবার লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এক পরিবার। ২৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মো. রেদওয়ান খান নামে এক ব্যক্তি এ অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, রঘুনাথপুর এলাকার আ. গফুর খানের পুত্র মো. রেদওয়ান খানের সাথে ২০২১ সালের ১মার্চ হাইমচর উপজেলার আলগী বাজার মহজমপুর গ্রামের মো. আলমগীর আখনের মেয়ে আখি আক্তারের বিবাহ হয়। এতে উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তে কাবিন নামায় রেজিস্টারে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেনমহর এবং এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা উসিল ধার্য করে বিবাহ সম্পন্ন হয়। এতে উপস্থিত দুই পক্ষের মুরব্বীগণ সাক্ষর করেন।

কিন্তু মো. রেদওয়ান খান বিবাহের পর কাবিন নামা উঠাতে গিয়ে দেখেন তাকে উসিল এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার জায়গায় মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা লেখা হয়েছে করা।

Model Hospital

তখন, কাজী আবুল কালাম আজাদকে বিবাহের স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে কাবিনের বিষয়টা বুঝানোর পর তিনি নিজ থেকে আরেকটি কাবিননামা দেন। যাতে উসিল উল্লেখ করা হয় এক লাখ) টাকা। অথচ প্রকৃত পক্ষে এ দুটি কাবিন নামার একটিও সঠিক নয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. রেদওয়ান খান বলেন, কাজী আবুল কালাম আজাদ সাহেব কনে পক্ষের সাথে অর্থের বিনিময়ে কাবিন নামা জালিয়াতি করেছেন। তার কাছে বার বার অনুরোধ করার পরেও তিনি এর সমাধান করেননি এবং সঠিক কাবিন নামাটি বুঝিয়ে দেননি। শুধু তাই নয়, কাজী সাহেব আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছে, তিনি বলেছেন আমার বিরুদ্ধে কোথাও কোন অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। এবিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণ এবং এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা উসিলের প্রকৃত কাবিন নামাটি আমাদের দেয়ার জন্য জেলা রেজিস্টার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জেলা রেজিস্টার বলেন, হাইমচর আলগী বাজারের কাজী আবুল কালাম আজাদের বিষয়ে আমাদের কাছে একটি কাবিন জালিয়াতির অভিযোগ এসেছে। যেই তাবিনের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে, সেই কাবিনের দুইটি কফি আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা কাজী সাহেব কে নোটিশ করব, তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী মাওলানা ফজলুল কবির পাটোয়ারী বলেন, এই কাজী আবুল কালাম আজাদের ব্যাপারে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, আমরা কয়েকবার তাকে সতর্ক করেছি। এখন আমরা জানতে পেরেছি যারা রেজিস্টার বরাবর উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে। আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে কাজী আবুল কালাম আজাদ বলেন, যা হয়েছে বিষয়টা আপনারা একটু ম্যানেজ করে দেন, কত মানুষেই তো কত কিছু করে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’