বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে বিনা অনুমতিতে সরকারী জলাশয় ব্যবহার করে মৎস চাষের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩, ৪:২৬ পিএম
চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে বিনা অনুমতিতে সরকারী জলাশয় ব্যবহার করে মৎস চাষের অভিযোগ
গাজী মোঃ মহসিন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত এক ইঞ্চি জমিও যাতে খালি না থাকে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এমন কথার উপর ভিত্তি করে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৬নং উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকরা নিরলসভাবে কৃষি উৎপাদনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের বড় অংশ ছিল এখানকার তিন একরের উপরের একটি দিঘি।
চাঁদপুর সদর উপজেলার অংশে সিএস ৩৩ ও ৩৪ নং দাগে ৮১ শতাংশ সরকারি খাস সম্পত্তি এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার অংশে সিএস ১৩২৩ নং দাগে দুই একর ৬৬ শতাংশের ব্যক্তি মালিকানা দিঘিটি ব্যাপক কাজে আসতো।
জানা যায়, যুগ যুগ ধরে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের টাহরখিল-বিমলেরগাঁও এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৬নং উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের করবন্দ গ্রামটি ছিল কৃষি নির্ভর একটি এলাকা।
এখানকার অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে চলতেন। উক্ত এলাকাগুলোর কৃষি জমিতে চাষ হতো বিভিন্ন ধরনের ফসল। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ব্যাপক ফসলও পাওয়া যেতো প্রতি বছর। কিন্তু দিন দিন যেন হারিয়ে যাচ্ছে ফসল উৎপাদনের অতীতের চিত্র। তার কারন হিসেবে কৃষকরা উল্লেখ করেন, এ বিলের চারদিকে একসময় ছোট বড় কয়েকটি খাল ছিল। পানি নিষ্কাশনের জন্য বেশ উপকারে আসতো। এখন ঐ খালগুলো আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন করা তেমন একটা সম্ভব হয়নি। বিকল্প উপায় হিসেবে যাও একটি দিঘি ছিল তা সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দিয়েছে ব্যক্তি মালিকরা। পানি নিষ্কাশনের জন্য যে পাইপ রাখা হয়েছে অতি বৃষ্টিতে এ এলাকার চাষকৃত ফসলী জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
এদিকে উক্ত দিঘিটি চাঁদপুর সদর ও মতলব দক্ষিণের দুই উপজেলার সিএস খতিয়ানে তিন একর ৪৭ শতাংশ হলেও চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের টাহরখিল মৌজায় ৮১ শতাংশের মধ্যে বিএস খতিয়ানে ৩ শতাংশ কমে গিয়ে ৪৫৪ নং দাগে ৭৮ শতাংশ রয়েছে। তাই তিন একর ৪৪ শতাংশের এই দিঘিটি এতবছর খোলা থাকলেও এখন তার পাড় বেঁধে ফেলায় কৃষি জমিগুলো হয়ে যাবে চাষাবাদের অনুপযোগী। চাঁদপুর সদরের ৭৮ শতাংশ সরকারি খাস সম্পত্তি পার্শ্ববর্তী হেলাল বেপারী সরকারের অনুমতি না নিয়েই সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছেন বছরের পর বছর।
উক্ত দিঘির একজন অংশীদার সাবেক নৌ বাহিনীর কর্মকর্তা মোঃ কামাল খান বলেন, আমি এই দিঘিতে ক্রয় সূত্রে ৫৭ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু আমাকে না জানিয়ে অন্যান্য অংশীদাররা সদরের ৮১ শতাংশ খাস জমিসহ পুরো দিঘিটি কয়েক বছরের জন্য পোশানী লাগিয়ে ফেলে। এক সময় ভারি বৃষ্টিতে আশেপাশের চাষকৃত জমিতে পানি জমে থাকার সুযোগ ছিল না। কারন পাশের ছোট ছোট খাল দিয়ে পানি নেমে যেতো। এমনকি এই দিঘির পানি দিয়ে ফসল চাষ হতো। এখন তা ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। দিঘির খোলা দক্ষিণ পাড়ে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দেয়ায় আশেপাশের কৃষি জমিগুলো হুমকির মুখে পড়ে যাবে।
দিঘির অংশীদার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, আমার ৮১ শতাংশ ও ইউসুফ পাটওয়ারী সাহেবের ১ একর ৩৩ শতাংশ ব্যক্তি মালিকানা অংশটুকুই পোষানী লাগিয়েছি। চাঁদপুর সদরের অংশটুকু পোষানী গ্রহীতা নিজেই শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সম্ভবত লিজ নিয়েছে। সেটা আমি পুরোপুরি অবগত নই।
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বিশু দেবনাথ বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। জানার পরেই চাঁদপুর সদর উপজেলা ভূমি অফিসে অবগত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি লিজ লাগানোর ক্ষমতা কারো নেই। যদি এমন কিছু করা হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী বলেন, ইউনিয়নের মধ্যে যে এ এলাকায় সরকারি খাস জমি আছে তা আগে জানতাম না। এবছরই প্রথম জানলাম। তবে সরকারি খাস সম্পত্তিটি সম্ভবত এসি ল্যান্ড অফিস থেকে অনুমতি আনা হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ হেদায়েত উল্যাহ এ প্রতিবেদককে বলেন, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সরকারি এ সম্পত্তির কাগজপত্র দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital