শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোর হলেই উপ-নির্বাচন : নৌকা-অটোরিকশার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩, ৪:০২ পিএম
ভোর হলেই উপ-নির্বাচন : নৌকা-অটোরিকশার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইলেকটট্রনিক্স পদ্ধতিতে অর্থাৎ ইভিএমের মাধ্যমে ৯টি কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং, পোলিং অফিসার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী স্ব-স্ব ভোটকেন্দ্রে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা সেজেছে নির্বাচনী আমেজে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোট দিবেন ভোটাররা। এলাকার রাস্তাঘাট সহ নানা স্থানে প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো মোহনপুর ইউনিয়ন।

সাধারণ ভোটাররা উৎসব মুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশা করছেন।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিন্দন্দ্বীতা করছে। এ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি ভোট কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৬৬২ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৮২ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ৭ হাজার ৫৮০ জন। মোট ৯টি ভোট কেন্দ্র। মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৪৮টি ও অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৩টি। তবে প্রার্থীরা কাকে ভোট দেবেন এ নিয়ে শেষ মুহূর্তে চলছে নিরব হিসাব নিকাশ।

Model Hospital

বুধবার সকালে মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাই প্রধানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ৭ প্রার্থী।

এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিন্দনন্দ্বীতাকারীরা হচ্ছেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই প্রধান, স্বতন্ত্র হিসেবে অটোরিকশা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন কাজী মিজানুর রহমান, আনারস প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন আবুল কাশেম মাস্টার, মোটর সাইকেল প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন হাবিবুর রহমান (হাফিজ তপাদার), ঘোড়া প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন অ্যাড. সেলিম মিয়া, চশমা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন বদিউর রহমান, ঢোল প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন আবু হানিফ অভি, টেলিফোন প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন ফয়সাল আহমেদ নাদিম, টেবিল ফ্যান প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন শরীফ মাহমুদ সায়েম। নির্বাচনে নৌকা ও অটোরিকশা প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

অপরদিকে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে শুণ্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই জন।

এদিকে চাঁদপুর জেলা পুলিশ এই নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রত্যেক কেন্দ্রে পুলিশ সদস্য রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও আনন্দঘন করার জন্য যা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন চাঁদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‌্যাব, আনসার সদস্যরা টহলরত অবস্থায় নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান বলেন, ১৬ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আমরা সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ। এই নির্বাচনে সম্মানিত ভোটাররা নির্বিঘ্নে যেন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে ক্ষেত্রে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষে ৬জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ বাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য কাজ শুরু করেছেন। র‌্যাবের এলিট টিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছেন।

এছাড়া নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনায় যে সকল সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, প্রার্থীসহ ভোটারদের সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিজ্ঞ।

কচুয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার কাজী আবু বকর সিদ্দিক জানান, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’