বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বিআইডব্লিউটিএর জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩, ৪:২৪ পিএম
চাঁদপুর ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বিআইডব্লিউটিএর জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর পুরান বাজার ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বিআইডব্লিউটিএ সরকারি শত শত একর জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে ভূমিদস্যু চক্ররা।

বিআইডব্লিউটিএর কর্মরত সিবিএ নেতাদের সহযোগিতায় ভূমিধসুচক্রা দিনের পর দিন এভাবে সরকারি জায়গা দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদপুর শহরের পুরান বাজার ১ নং ওয়ার্ড খেয়াঘাট থেকে শুরু করে শিশু হাসপাতাল পর্যন্ত অসংখ্য জায়গা জবর দখল করে নিয়েছে।

আবার সেই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ পন্থায় ইনকাম করছে। এছাড়া সরকারি জায়গা সহ স্থাপনা গুলো স্ট্যাম্পের মাধ্যমে অন্যে ব্যক্তির কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা বিক্রি করছে সেই চক্ররা।

Model Hospital

সরজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, পুরান বাজার কুলিবাগান সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মিম বেকারির মালিক নুর আলম বিআইডব্লিউটিএ এর জায়গা দখল করে কাঠের দোতলা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া হাবিবা অটো রাইস মেইল সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে ভূমিদস্যু জাকির ৩০ শতাংশ জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে সেখানে গরুর ফার্ম দিয়েছে।

অবৈধ দখলদার জাকিরের গরুর ফার্মের পাশে বিল্লাল পাটোয়ারী সরকারি জায়গা দখল করে বরফ কল ও সুতা তৈরির কারখানার তৈরি করে দীর্ঘদিন যাবত ভোগ দখল করে আসছে।

এছাড়া ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ টি অবৈধ ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেছে। সেখানে চোরাই বালুর বলগেট ও স্টিল বডি টলার এনে রাতের আঁধারে কেটে বিক্রি করে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ চোরাই টলার কাটার সময় জাকিরের ভাই মনির সহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এছাড়া জনতা লবণ ফ্যাক্টরি মালিক আজাদ বিআইডব্লিউটিএ এর প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা দখল করে হাজার হাজার বস্তা লবণ রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে অবৈধভাবে বাস ও কাঠের সেতু নির্মাণ করেছে। এতে করে নৌ চলাচল ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। এই অবৈধ দখলদারদের কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই ঘটনা জানতে পেরে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএবন্দর কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎতের নির্দেশে একটি টিম সেখানে গিয়ে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে আসেন ও তিন দিনের মধ্যে সেই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা নির্দেশ দেয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটিএ এর জায়গা ভরি লুট করে দখলে নিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। বিআইডব্লিউটিএ সিবিএর সভাপতি আব্দুল সাত্তার এই অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে দখল করার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রতিমাসে সেই সিবিএ নেতার নেতৃত্বে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা তুলে নিচ্ছে। এই সিবিএ নেতা আব্দুস সাত্তার প্রায় বিশ বছরের বেশি সময় চাঁদপুর অবস্থান করে রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছে।

খুব দ্রুতগতিতে অসাধু সিবিএ কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার সহ সংশ্লিষ্ট যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এছাড়া অবৈধ দখলদারদের খুব দ্রুত গতিতে উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা পুনরুদ্ধার করার জোর দাবি করার সচেতন মহল।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।